Thursday, March 5, 2015
bangla story: মনোভাব ইতিবাচক, 'নড়ছেন' দুই নেত্রী!
bangla story: মনোভাব ইতিবাচক, 'নড়ছেন' দুই নেত্রী!: বাংলাদেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের দুই নেত্রীর মনোভাবে ইতিবাচক কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নিজ নিজ অটল অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছে...
মনোভাব ইতিবাচক, 'নড়ছেন' দুই নেত্রী!
বাংলাদেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের দুই নেত্রীর মনোভাবে ইতিবাচক কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নিজ নিজ অটল অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছেন দুই নেত্রী। এক চুল করে হলেও যার যার অবস্থান থেকে নড়েছেন তারা। আশাবাদীরা বলছেন, এটা তাদেরকে যার যার অবস্থানে জয়ীই করবে।
এসব অভিমত দুই নেত্রীর শুভাকাঙ্ক্ষীদেরও। তারা বলছেন, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা কমাতে এমন পরিবর্তনই কাম্য। বুধবার (৪ মার্চ) দুই পক্ষের আচরণেই কিছু আশা জাগ্রত হয়েছে তাদের মধ্যে।
শেখ হাসিনার ভক্তরা সব কৃতিত্ব তাকেই দিচ্ছেন। তাদের মতে, চলমান হরতাল-অবরোধে জনজীবনের ভোগান্তি সইতে পারছেন না শেখ হাসিনা। যদিও হরতালের কোন লক্ষণ নেই রাজপথে, তবু সহিংসতায় ক্ষতি হচ্ছে সাধারণ মানুষের। সার্বিকভাবে দেশের যে কোনও পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তার দায় না থাকলেও দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর কাঁধেই বর্তায়। আর সে কারণেই নমনীয় থেকে খালেদা জিয়াকে বারবার সুযোগ দিচ্ছেন। তবে বুধবার থেকে খালেদা জিয়ার কার্যালয় থেকেও একটা স্বাভাবিক অবস্থার আভাস মিলছে।
এক্ষেত্রে কূটনীতিকদের অবদানকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন, ১৬ দেশের কূটনীতিকের অব্যাহত প্রচেষ্টার ফল এটি। সরকার পক্ষ ও বিএনপি’র মধ্যে মধ্যস্থতা করছেন তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষকে এক টেবিলে বসাতে না পারলেও দুই পক্ষের মনোভাব পরস্পরের কাছে ইতিবাচকভাবে পৌঁছে দিচ্ছেন কূটনীতিকরা। আর তাতেই পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, কিছুটা সুবাতাস বইছে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে।
বিশেষ করে, মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাদের সাক্ষাতের বিষয়টিতে কাজ হয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন। সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট একাধিক প্রস্তাব নিয়ে তারা সেখানে গেছেন।
এর আগে সরকার পক্ষকেও এ কূটনীতিকরা অনুরোধ করেছেন, দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে। এভাবেই ত্রি-মূখী অবদানে সুফল আসছে বলে মনে করা হচ্ছে।
৪ মার্চ আদালতে খালেদার আত্মসমর্পণের কথা, তা নিয়ে টানা কয়েকদিন নানা জল্পনা-কল্পনা-উত্তেজনা চলছিল। কারন তার ওপর রয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, রয়েছে তার কার্যালয়ে তল্লাশির নির্দেশও।
সেই টান টান উত্তেজনার মাঝেই বিএনপি থেকে জানানো হয়, আত্মসমর্পণ নয়, ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর চেহলাম পালন করবেন খালেদা।
শেষ পর্যন্ত হলও তাই। আর এ বিষয়টি মেনে নিলো সরকারও। কোন প্রকার কঠোরতার ধার দিয়ে গেল না প্রশাসন। খালেদার অপেক্ষায় আদালতে বিকেল পর্যন্ত ছিলেন বাদী প্রক্ষের আইনজীবীরা। কিন্তু চেহলামে ব্যস্ত রইলেন খালেদা, আদালতে গেলেন না।
মিডিয়ার আগ্রহ তবুও ছিল গুলশান ঘিরে। বিশেষ করে রাতে একটা কিছু হতে পারে- ভেবেই সেখানে জড়ো ছিলেন সংবাদকর্মীরা।
গুঞ্জন ছিল- খালেদাকে গ্রেপ্তার করা না হলেও তল্লাশিতে গিয়ে খালেদার সঙ্গে অন্য অবস্থানকারীদের বের করে দেবে পুলিশ।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত তেমন কিছু হয়নি। জাতির মনোযোগ ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়ায়।
বিকেলে সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন তিনি। ‘কেন খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না’- এমন এক প্রশ্নের জবাবে কৌশলী শেখ হাসিনার উত্তরের সারমর্ম ছিল- ‘খালেদা জিয়া জনরোষ থেকে বাঁচতে কারাগারকেই নিরাপদ মনে করছেন।’
সুনির্দিষ্ট কারন বা দিনক্ষণ উল্লেখ করলেন না অভিজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী। কন্ঠস্বরেও কিছুটা পরিবর্তন পেলেন কেউ কেউ। খালেদা জিয়ার প্রতিক্রিয়া জানতে আগ্রহীরাও হতাশার মাঝে আশা পেলেন।
কারন গুলশান কার্যালয়ে তিনি অবস্থান করছেন দুই মাসেরও বেশিদিন (০৩ জানুয়ারি থেকে) ধরে। এই সময়টিতে তার রাজনীতি বিজ্ঞপ্তি নির্ভর হয়ে পড়ে।
বুধবারও এসেছে বিজ্ঞপ্তি, তবে সেটি যুগ্ম-মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমেদের স্বাক্ষর নিয়ে। খোদ খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে কোন বক্তব্য আসেনি। পরে অপর বিজ্ঞপ্তিতে চেহলাম অনুষ্ঠানের মোনাজাতের ছবি পাঠানো হয়।
এটাকেই প্রতিক্রিয়া বলে ধরে নিলেন কেউ কেউ, যেন খালেদা বোঝালেন- হরতাল-অবরোধ বা সরকারকে আঘাত করায় নয়, তার মনোযোগ এখন ছেলের চেহলামে।
এভাবেই দু’য়ে দু’য়ে চার মিলিয়ে আনন্দিত হচ্ছেন অনেকে। ভাবছেন, দুই পক্ষই সামনে হয়তো আরও সহনশীলতা ও নমনীয়তার পরিচয় দেবেন, জনগণের জন্য কোন সুখবর আসছে। এর মধ্যে ভিন্ন আলোচনায়ও কেউ কেউ প্রমাণ করতে চাইছেন- খালেদার প্রতি সরকার নমনীয়।
খালেদার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থানায় পৌঁছেনি- বলে দাবি করা হচ্ছে। এই দাবি থেকে প্রমাণ হয়, সরকারই আসলে খালেদাকে গ্রেপ্তারে আগ্রহী নয়, বরং এটি তাকে শাসনের কৌশল।
এভাবেই মঙ্গল ও বুধবারের সামগ্রিক চিত্রে আশার সঞ্চার হচ্ছে জনমনে।
এসব প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে, সরকারি দলের এক সিনিয়র নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘যা হবে, জনগণ দেখবে। এখানে নতুন কি? আমরা সবসময়ই দেশের স্বার্থে প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়েছি। আদালত, প্রশাসন, সরকার- সবই মানুষের জন্য। মিলেমিশেই কাজ করবে- এটাই স্বাভাবিক। এটিকে কোনভাবেই নেতিবাচকভাবে চিন্তা করা ঠিক না।’
এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, রাজনীতিতে প্রতিদিনই নতুন কিছু হয়, আবার কোনকিছুই নতুন বা শেষ নয়। বিএনপি বলুন, আর আওয়ামী লীগ বলুন, মানুষের চাওয়া-পাওয়াকে পুরোপুরি অস্বীকার করে কেউ রাজনীতি করে না।’
তিনি বলেন, মানুষ শান্তি চায়, বিএনপি জনগণের শান্তি ও স্বস্তির জন্য কাজ করেছে সব সময়। সরকারের চাওয়াও যদি একই হয়, তাহলেতো কোন সমস্যাই থাকে না।
একই প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, সহিংসতায়ে বিএনপি কোনকালেই বিশ্বাস করেনি। সহিংসতা বিএনপি করছে না। তাই ‘সহিংসতা বন্ধ করলে এমনটি হবে-তেমনটি হবে’- বলে লাভ নেই।
‘তবে কর্মসূচি তুলে নিতে বললে কর্মসূচির পেছনের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার বিনীত অনুরোধই করবো আমরা। কারণ আমরা এখনো বিশ্বাস করি, আওয়ামী লীগের মতো পুরনো একটি দল জনগণের আশাকে মূল্যায়ণ করবে’– যোগ করেন এই নেতা।
এসব অভিমত দুই নেত্রীর শুভাকাঙ্ক্ষীদেরও। তারা বলছেন, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা কমাতে এমন পরিবর্তনই কাম্য। বুধবার (৪ মার্চ) দুই পক্ষের আচরণেই কিছু আশা জাগ্রত হয়েছে তাদের মধ্যে।
শেখ হাসিনার ভক্তরা সব কৃতিত্ব তাকেই দিচ্ছেন। তাদের মতে, চলমান হরতাল-অবরোধে জনজীবনের ভোগান্তি সইতে পারছেন না শেখ হাসিনা। যদিও হরতালের কোন লক্ষণ নেই রাজপথে, তবু সহিংসতায় ক্ষতি হচ্ছে সাধারণ মানুষের। সার্বিকভাবে দেশের যে কোনও পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তার দায় না থাকলেও দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর কাঁধেই বর্তায়। আর সে কারণেই নমনীয় থেকে খালেদা জিয়াকে বারবার সুযোগ দিচ্ছেন। তবে বুধবার থেকে খালেদা জিয়ার কার্যালয় থেকেও একটা স্বাভাবিক অবস্থার আভাস মিলছে।
এক্ষেত্রে কূটনীতিকদের অবদানকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন, ১৬ দেশের কূটনীতিকের অব্যাহত প্রচেষ্টার ফল এটি। সরকার পক্ষ ও বিএনপি’র মধ্যে মধ্যস্থতা করছেন তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষকে এক টেবিলে বসাতে না পারলেও দুই পক্ষের মনোভাব পরস্পরের কাছে ইতিবাচকভাবে পৌঁছে দিচ্ছেন কূটনীতিকরা। আর তাতেই পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, কিছুটা সুবাতাস বইছে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে।
বিশেষ করে, মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাদের সাক্ষাতের বিষয়টিতে কাজ হয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন। সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট একাধিক প্রস্তাব নিয়ে তারা সেখানে গেছেন।
এর আগে সরকার পক্ষকেও এ কূটনীতিকরা অনুরোধ করেছেন, দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে। এভাবেই ত্রি-মূখী অবদানে সুফল আসছে বলে মনে করা হচ্ছে।
৪ মার্চ আদালতে খালেদার আত্মসমর্পণের কথা, তা নিয়ে টানা কয়েকদিন নানা জল্পনা-কল্পনা-উত্তেজনা চলছিল। কারন তার ওপর রয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, রয়েছে তার কার্যালয়ে তল্লাশির নির্দেশও।
সেই টান টান উত্তেজনার মাঝেই বিএনপি থেকে জানানো হয়, আত্মসমর্পণ নয়, ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর চেহলাম পালন করবেন খালেদা।
শেষ পর্যন্ত হলও তাই। আর এ বিষয়টি মেনে নিলো সরকারও। কোন প্রকার কঠোরতার ধার দিয়ে গেল না প্রশাসন। খালেদার অপেক্ষায় আদালতে বিকেল পর্যন্ত ছিলেন বাদী প্রক্ষের আইনজীবীরা। কিন্তু চেহলামে ব্যস্ত রইলেন খালেদা, আদালতে গেলেন না।
মিডিয়ার আগ্রহ তবুও ছিল গুলশান ঘিরে। বিশেষ করে রাতে একটা কিছু হতে পারে- ভেবেই সেখানে জড়ো ছিলেন সংবাদকর্মীরা।
গুঞ্জন ছিল- খালেদাকে গ্রেপ্তার করা না হলেও তল্লাশিতে গিয়ে খালেদার সঙ্গে অন্য অবস্থানকারীদের বের করে দেবে পুলিশ।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত তেমন কিছু হয়নি। জাতির মনোযোগ ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়ায়।
বিকেলে সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন তিনি। ‘কেন খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না’- এমন এক প্রশ্নের জবাবে কৌশলী শেখ হাসিনার উত্তরের সারমর্ম ছিল- ‘খালেদা জিয়া জনরোষ থেকে বাঁচতে কারাগারকেই নিরাপদ মনে করছেন।’
সুনির্দিষ্ট কারন বা দিনক্ষণ উল্লেখ করলেন না অভিজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী। কন্ঠস্বরেও কিছুটা পরিবর্তন পেলেন কেউ কেউ। খালেদা জিয়ার প্রতিক্রিয়া জানতে আগ্রহীরাও হতাশার মাঝে আশা পেলেন।
কারন গুলশান কার্যালয়ে তিনি অবস্থান করছেন দুই মাসেরও বেশিদিন (০৩ জানুয়ারি থেকে) ধরে। এই সময়টিতে তার রাজনীতি বিজ্ঞপ্তি নির্ভর হয়ে পড়ে।
বুধবারও এসেছে বিজ্ঞপ্তি, তবে সেটি যুগ্ম-মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমেদের স্বাক্ষর নিয়ে। খোদ খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে কোন বক্তব্য আসেনি। পরে অপর বিজ্ঞপ্তিতে চেহলাম অনুষ্ঠানের মোনাজাতের ছবি পাঠানো হয়।
এটাকেই প্রতিক্রিয়া বলে ধরে নিলেন কেউ কেউ, যেন খালেদা বোঝালেন- হরতাল-অবরোধ বা সরকারকে আঘাত করায় নয়, তার মনোযোগ এখন ছেলের চেহলামে।
এভাবেই দু’য়ে দু’য়ে চার মিলিয়ে আনন্দিত হচ্ছেন অনেকে। ভাবছেন, দুই পক্ষই সামনে হয়তো আরও সহনশীলতা ও নমনীয়তার পরিচয় দেবেন, জনগণের জন্য কোন সুখবর আসছে। এর মধ্যে ভিন্ন আলোচনায়ও কেউ কেউ প্রমাণ করতে চাইছেন- খালেদার প্রতি সরকার নমনীয়।
খালেদার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থানায় পৌঁছেনি- বলে দাবি করা হচ্ছে। এই দাবি থেকে প্রমাণ হয়, সরকারই আসলে খালেদাকে গ্রেপ্তারে আগ্রহী নয়, বরং এটি তাকে শাসনের কৌশল।
এভাবেই মঙ্গল ও বুধবারের সামগ্রিক চিত্রে আশার সঞ্চার হচ্ছে জনমনে।
এসব প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে, সরকারি দলের এক সিনিয়র নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘যা হবে, জনগণ দেখবে। এখানে নতুন কি? আমরা সবসময়ই দেশের স্বার্থে প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়েছি। আদালত, প্রশাসন, সরকার- সবই মানুষের জন্য। মিলেমিশেই কাজ করবে- এটাই স্বাভাবিক। এটিকে কোনভাবেই নেতিবাচকভাবে চিন্তা করা ঠিক না।’
এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, রাজনীতিতে প্রতিদিনই নতুন কিছু হয়, আবার কোনকিছুই নতুন বা শেষ নয়। বিএনপি বলুন, আর আওয়ামী লীগ বলুন, মানুষের চাওয়া-পাওয়াকে পুরোপুরি অস্বীকার করে কেউ রাজনীতি করে না।’
তিনি বলেন, মানুষ শান্তি চায়, বিএনপি জনগণের শান্তি ও স্বস্তির জন্য কাজ করেছে সব সময়। সরকারের চাওয়াও যদি একই হয়, তাহলেতো কোন সমস্যাই থাকে না।
একই প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, সহিংসতায়ে বিএনপি কোনকালেই বিশ্বাস করেনি। সহিংসতা বিএনপি করছে না। তাই ‘সহিংসতা বন্ধ করলে এমনটি হবে-তেমনটি হবে’- বলে লাভ নেই।
‘তবে কর্মসূচি তুলে নিতে বললে কর্মসূচির পেছনের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার বিনীত অনুরোধই করবো আমরা। কারণ আমরা এখনো বিশ্বাস করি, আওয়ামী লীগের মতো পুরনো একটি দল জনগণের আশাকে মূল্যায়ণ করবে’– যোগ করেন এই নেতা।
Labels:
250
Location:
Dhaka, Bangladesh
bangla story: বারবার কম্পিউটার রিস্টার্ট হলে যা করবেন
bangla story: বারবার কম্পিউটার রিস্টার্ট হলে যা করবেন: মাঝে মাঝে আপনার কম্পিউটার বারবার রিস্টার্ট হয়ে যায়। ডিসপ্লে আসতে বিঘ্ন ঘটায় কিংবা ডিসপ্লে অন করতে দেয় না। এই সমস্যাটির সঙ্গে আমরা প্রায় সক...
বারবার কম্পিউটার রিস্টার্ট হলে যা করবেন
মাঝে মাঝে আপনার কম্পিউটার বারবার রিস্টার্ট হয়ে যায়। ডিসপ্লে আসতে বিঘ্ন ঘটায় কিংবা ডিসপ্লে অন করতে দেয় না।
এই সমস্যাটির সঙ্গে আমরা প্রায় সকলেই পরিচিত। এ রকম হলে যা আমাদের করতে হবে; প্রথমে দেখতে হবে যে র্যাম শ্লটটি তে র্যাম ঠিক ভাবে আছে কিনা?
যদি সেটিও ঠিক থাকে, তাহলে বুঝতে হবে এটি ভাইরাস এর কারণে হয়েছে। আমরা অনেক সময় বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন ফাইল কপি করি মূলত সেই সকল ফাইল থেকেই ভাইরাসটি ছড়িয়ে যায় কম্পিটারে।
এই জন্য একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-ভাইরাস ইন্সটল করতে হবে। তারপর অ্যান্টি-ভাইরাস দিয়ে সম্পূর্ণ কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভটি স্ক্যান করে নিতে হবে। যদি অ্যান্টি-ভাইরাসটিও ইন্সটল না করতে দেয় তাহলে কম্পিউটারটিতে নতুন করে অপারেটিং সিস্টেম দিতে হবে। এরপর দেখবেন আপনার কম্পিউটারটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে গেছে।
এই সমস্যাটির সঙ্গে আমরা প্রায় সকলেই পরিচিত। এ রকম হলে যা আমাদের করতে হবে; প্রথমে দেখতে হবে যে র্যাম শ্লটটি তে র্যাম ঠিক ভাবে আছে কিনা?
যদি সেটিও ঠিক থাকে, তাহলে বুঝতে হবে এটি ভাইরাস এর কারণে হয়েছে। আমরা অনেক সময় বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন ফাইল কপি করি মূলত সেই সকল ফাইল থেকেই ভাইরাসটি ছড়িয়ে যায় কম্পিটারে।
এই জন্য একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-ভাইরাস ইন্সটল করতে হবে। তারপর অ্যান্টি-ভাইরাস দিয়ে সম্পূর্ণ কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভটি স্ক্যান করে নিতে হবে। যদি অ্যান্টি-ভাইরাসটিও ইন্সটল না করতে দেয় তাহলে কম্পিউটারটিতে নতুন করে অপারেটিং সিস্টেম দিতে হবে। এরপর দেখবেন আপনার কম্পিউটারটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে গেছে।
Labels:
200
Location:
Dhaka, Bangladesh
bangla story: যে দ্বীপে মানুষের থেকে বিড়ালের সংখ্যা বেশি
bangla story: যে দ্বীপে মানুষের থেকে বিড়ালের সংখ্যা বেশি: মানুষ নয়, বিড়ালই সেখানে রাজা। তারাই রাজত্ব করছে, তারাই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। সেদেশে ৬টি বিড়াল পিছু একজন মানুষ। অর্থাৎ সেখানে মানুষের মোট সংখ্যা ...
যে দ্বীপে মানুষের থেকে বিড়ালের সংখ্যা বেশি
মানুষ নয়, বিড়ালই সেখানে রাজা। তারাই রাজত্ব করছে, তারাই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। সেদেশে ৬টি বিড়াল পিছু একজন মানুষ।
অর্থাৎ সেখানে মানুষের মোট সংখ্যা ২২ আর বিড়াল প্রায় ১২০। দক্ষিণ জাপানের এক প্রত্যেন্ত দ্বীপের চিত্র এটা।
গল্পটা শুরু হয় বেশ কয়েকবছর আগে। জাপানের একটি দ্বীপ আওশিমা। ওই দ্বীপে মৎস্যজীবীদের নৌকার উপর অত্যাচার চালাত কিছু ইঁদুর।
তাদের শায়েস্তা করতেই দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয় এই বিড়ালদের। ইঁদুর তো দূর করেই ছেড়েছে। পাশাপাশি, সেখানেই ঘাঁটি গেড়ে বসেছে তারা। ১২০টি বিড়াল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, আর সঙ্গী গুটিকয়েক মানুষ। বেশরভাগই কাজ থেকে অবসরপ্রাপ্ত।
এছাড়া দ্বীপের অন্যান্য মানুষ কাজের সন্ধানে দ্বীপের বাইরে। ১৯৪৫ সালে এই দ্বীপে মানুষের সংখ্যা ছিল ৯০০। এখন বেশির ভাগ মানুষ নৌকায় চেপে 'ক্যাট আইল্যান্ড' পরিদর্শনে যায়। এই দ্বীপে না আছে খাবারের দোকান, না আছে গাড়ি। কিন্তু তবুও বিড়ালপ্রেমীরা একবার ঘুরে আসে এখানে।
এখানকার বিড়ালদের চাহিদাও খুবই কম। পর্যটকরাই তাদের নানারকম খাবার দিয়ে থাকে। তাতেই তারা খুশি।
অর্থাৎ সেখানে মানুষের মোট সংখ্যা ২২ আর বিড়াল প্রায় ১২০। দক্ষিণ জাপানের এক প্রত্যেন্ত দ্বীপের চিত্র এটা।
গল্পটা শুরু হয় বেশ কয়েকবছর আগে। জাপানের একটি দ্বীপ আওশিমা। ওই দ্বীপে মৎস্যজীবীদের নৌকার উপর অত্যাচার চালাত কিছু ইঁদুর।
তাদের শায়েস্তা করতেই দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয় এই বিড়ালদের। ইঁদুর তো দূর করেই ছেড়েছে। পাশাপাশি, সেখানেই ঘাঁটি গেড়ে বসেছে তারা। ১২০টি বিড়াল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, আর সঙ্গী গুটিকয়েক মানুষ। বেশরভাগই কাজ থেকে অবসরপ্রাপ্ত।
এছাড়া দ্বীপের অন্যান্য মানুষ কাজের সন্ধানে দ্বীপের বাইরে। ১৯৪৫ সালে এই দ্বীপে মানুষের সংখ্যা ছিল ৯০০। এখন বেশির ভাগ মানুষ নৌকায় চেপে 'ক্যাট আইল্যান্ড' পরিদর্শনে যায়। এই দ্বীপে না আছে খাবারের দোকান, না আছে গাড়ি। কিন্তু তবুও বিড়ালপ্রেমীরা একবার ঘুরে আসে এখানে।
এখানকার বিড়ালদের চাহিদাও খুবই কম। পর্যটকরাই তাদের নানারকম খাবার দিয়ে থাকে। তাতেই তারা খুশি।
bangla story: রাজার কবর খুঁড়ে রহস্যময়ী নারীর সন্ধান!
bangla story: রাজার কবর খুঁড়ে রহস্যময়ী নারীর সন্ধান!: ইংল্যান্ডের তৃতীয় রাজা রিচার্ডের কবর খুঁড়ে তার পাশেই প্রত্নতত্ত্ববিদরা এক নারীর কবর খুঁজে পেয়েছেন। এ ঘটনায় অবাক না হওয়ার কিছু নেই। রাজার ক...
রাজার কবর খুঁড়ে রহস্যময়ী নারীর সন্ধান!
ইংল্যান্ডের তৃতীয় রাজা রিচার্ডের কবর খুঁড়ে তার পাশেই প্রত্নতত্ত্ববিদরা এক নারীর কবর খুঁজে পেয়েছেন। এ ঘটনায় অবাক না হওয়ার কিছু নেই। রাজার কবরের পাশে কিভাবে এবং কারা দিল এই কবর? আর এই নারীই বা কে এ প্রশ্ন তো থেকেই যায়।
পরে হাড়গোড় পরীক্ষা করে দেখা গেছে কবরে যিনি শায়িত ছিলেন তিনি একজন বয়স্ক নারী। খ্রিষ্টীয় ত্রয়োদশ থেকে চতুর্দশ শতকের কোনো এক সময় তাকে কবর দেয়া হয়েছে।
গবেষকদের ধারনা, এই নারী ছিলেন উচ্চ মর্যাদার কেউ। কিন্তু রাজার বংশ পরিচয় বিশ্লেষণ করে হিসাব মেলানো যাচ্ছে না। কারণ রাজা তৃতীয় রিচার্ড ১৪৮৩ সাল থেকে ১৪৮৫ সালে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হওয়া পর্যন্ত ইংল্যান্ড শাসন করেছেন। তাকে গ্রে ফ্রায়ার্স আশ্রমে তড়িঘড়ি করে সমাধিস্থ করা হয়েছিল।
১৬শ' শতাব্দীতে আশ্রমটি ধ্বংস করা হয়। পরে সেটি কালের গহ্বরে হারিয়ে যায়। ২০১২ সালে ইউনিভার্সিটি অব লিচেস্টারের গবেষকরা এটির অবস্থান শনাক্ত করেন। এরপর একটি পার্কিং স্থানের নিচে খুঁড়ে রাজার কবর এবং আশ্রমটির আরো মূল্যবান জিনিসপত্র পাওয়া যায়। তবে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ওই নারীর কবরটি।
পরে হাড়গোড় পরীক্ষা করে দেখা গেছে কবরে যিনি শায়িত ছিলেন তিনি একজন বয়স্ক নারী। খ্রিষ্টীয় ত্রয়োদশ থেকে চতুর্দশ শতকের কোনো এক সময় তাকে কবর দেয়া হয়েছে।
গবেষকদের ধারনা, এই নারী ছিলেন উচ্চ মর্যাদার কেউ। কিন্তু রাজার বংশ পরিচয় বিশ্লেষণ করে হিসাব মেলানো যাচ্ছে না। কারণ রাজা তৃতীয় রিচার্ড ১৪৮৩ সাল থেকে ১৪৮৫ সালে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হওয়া পর্যন্ত ইংল্যান্ড শাসন করেছেন। তাকে গ্রে ফ্রায়ার্স আশ্রমে তড়িঘড়ি করে সমাধিস্থ করা হয়েছিল।
১৬শ' শতাব্দীতে আশ্রমটি ধ্বংস করা হয়। পরে সেটি কালের গহ্বরে হারিয়ে যায়। ২০১২ সালে ইউনিভার্সিটি অব লিচেস্টারের গবেষকরা এটির অবস্থান শনাক্ত করেন। এরপর একটি পার্কিং স্থানের নিচে খুঁড়ে রাজার কবর এবং আশ্রমটির আরো মূল্যবান জিনিসপত্র পাওয়া যায়। তবে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ওই নারীর কবরটি।
Labels:
200
Location:
Dhaka, Bangladesh
bangla story: এনামুলের বিশ্বকাপ শেষ, সুযোগ পেলেন ইমরুল কায়েস
bangla story: এনামুলের বিশ্বকাপ শেষ, সুযোগ পেলেন ইমরুল কায়েস: স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ইনজুরিতে পড়েছেন এনামুল হক। আর সেই কারণে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেলো তার। নিউজিল্যান্ড থেকে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত ...
এনামুলের বিশ্বকাপ শেষ, সুযোগ পেলেন ইমরুল কায়েস
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ইনজুরিতে পড়েছেন এনামুল হক। আর সেই কারণে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেলো তার। নিউজিল্যান্ড থেকে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। আর তার জায়গায় আরেক ওপেনার ইমরুল কায়েসকে অস্ট্রেলিয়ায় উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আজ রাতেই অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়বেন ইমরুল।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচের তখন ৩১তম ওভার চলছে। কোয়েতজারের তাণ্ডব চলছে। এই সময় একটি বাউন্ডারি বাঁচাতে গিয়ে কাঁধে খুব ব্যথা পান এনামুল। মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। এরপর স্ক্যান করার জন্য কাছের হাসপাতালে নেওয়া হয় এনামুলকে। সেখান থেকেই নিশ্চিত হওয়া যায় যে খুব সহসাই ম্যাচে ফিরতে পারছেন না এই ওপেনার। এনামুল আগের দুই ম্যাচে আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৯ করে রান করেছেন।
তার জায়গায় দলে ঢোকা ইমরুল এবারের জাতীয় লিগে দুটি সেঞ্চুরি করেছেন। এখন পর্যন্ত ৫৩ ওয়ানডে খেলে ২৬.৭৩ গড়ে ইমরুলের রান ১৩৯০। একটি সেঞ্চুরি আছে তার। সর্বশেষ ২০১৪ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ইমরুল।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচের তখন ৩১তম ওভার চলছে। কোয়েতজারের তাণ্ডব চলছে। এই সময় একটি বাউন্ডারি বাঁচাতে গিয়ে কাঁধে খুব ব্যথা পান এনামুল। মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। এরপর স্ক্যান করার জন্য কাছের হাসপাতালে নেওয়া হয় এনামুলকে। সেখান থেকেই নিশ্চিত হওয়া যায় যে খুব সহসাই ম্যাচে ফিরতে পারছেন না এই ওপেনার। এনামুল আগের দুই ম্যাচে আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৯ করে রান করেছেন।
তার জায়গায় দলে ঢোকা ইমরুল এবারের জাতীয় লিগে দুটি সেঞ্চুরি করেছেন। এখন পর্যন্ত ৫৩ ওয়ানডে খেলে ২৬.৭৩ গড়ে ইমরুলের রান ১৩৯০। একটি সেঞ্চুরি আছে তার। সর্বশেষ ২০১৪ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ইমরুল।
bangla story: বিনা ভিসায় বাংলাদেশীরা ঘুরতে পারেন যেসব দেশে
bangla story: বিনা ভিসায় বাংলাদেশীরা ঘুরতে পারেন যেসব দেশে: একটা সময় ছিল যখন ঈদের ছুটি মানেই আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সময় কাটানো বা ঘোরাঘুরি। যুগ পাল্টেছে। এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে ঈদের...
বিনা ভিসায় বাংলাদেশীরা ঘুরতে পারেন যেসব দেশে
একটা সময় ছিল যখন ঈদের ছুটি মানেই আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সময় কাটানো বা ঘোরাঘুরি। যুগ পাল্টেছে। এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে ঈদের ছুটি কাটাতে যাচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ। যারা বিনা ভিসায় দেশের বাইরে ছুটি কাটাতে চান তাদের জন্য একটি তালিকা দেওয়া হলো। এ তালিকায় রয়েছে সেসব দেশের নাম ও দরকারী তথ্য যেখানে বিনা ভিসা বা অন অ্যারাইভেলে যাওয়া যায়।
ভিসা ছাড়া যাওয়া যাবে এবং অবস্থান করা যাবে এমন দেশগুলো হচ্ছে:
• এশিয়া মাহাদেশের মধ্যে ভুটান (যত দিন ইচ্ছা)
• শ্রীলংকা (৩০ দিন) আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে কেনিয়া (৩ মাস)
• মালাউই (৯০ দিন)
• সেশেল (১ মাস)
• আমেরিকা মাহাদেশের মধ্যে ডোমিনিকা (২১ দিন)
• হাইতি (৩ মাস)
• গ্রানাডা (৩ মাস)
• সেন্ট কিট্স এ্যান্ড নেভিস (৩ মাস)
• সেন্ড ভিনসেন্ট ও গ্রানাডাউন দ্বীপপুঞ্জ (১ মাস)
• টার্কস ও কেইকোস দ্বীপপুঞ্জ (৩০ দিন)
• মন্টসের্রাট (৩ মাস)
• ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপমালা (৩০ দিন)
• ওশেনিয়া মাহাদেশের মধ্যে ফিজি (৬ মাস)
• কুক দ্বীপপুঞ্জ (৩১ দিন)
• নাউরু (৩০ দিন)
• পালাউ (৩০ দিন)
• সামোয়া (৬০ দিন)
• টুভালু (১ মাস)
• নুউ (৩০ দিন)
• ভানুয়াটু (৩০ দিন)
• মাক্রোনেশিয়া তিলপারাষ্ট্র (৩০ দিন) অন্যতম।
এছাড়াও যেসব দেশে প্রবেশের সময় (on arrival) ভিসা পাওয়া যাবে সেগুলো হচ্ছে:
• এশিয়ার মধ্যে আজারবাইজান (৩০ দিন, ফি ১০০ ডলার)
• জর্জিয়া (৩ মাস)
• লাউস (৩০ দিন, ফি ৩০ ডলার)
• মালদ্বীপ(৩০ দিন)
• মাকাউ (৩০ দিন)
• নেপাল (৬০ দিন, ফি ৩০ ডলার)
• সিরিয়া (১৫ দিন)
• পূর্ব তিমুর (৩০ দিন, ফি ৩০ ডলার)
• আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে বুরুন্ডি, কেপ ভার্দ, কোমোরোস, জিবুতি (১ মাস, ফি ৫০০ জিবুতিয়ান ফ্রাঙ্ক)
• মাদাগাস্কার (৯০ দিন, ফ্রি ১,৪০,০০০ এমজিএ)
• মোজাম্বিক (৩০ দিন, ফি ২৫ ডলার)
• টোগো (৭ দিন, ফি ৩৫,০০০ এক্সডিএফ)
• উগান্ডা (৩ মাস, ফি ৩০ ডলার)।
তবে বাংলাদেশের এয়ারপোর্ট রওনা হবার সময় কিছু সুযোগ সন্ধানী অফিসার ভিসা নেই বা আপনার সমস্যা হবে এই মর্মে হয়রানি করতে পারে টু-পাই কামানোর জন্য। কেউ এসব দেশে বেড়াতে যেতে চাইলে টিকিট কেনার সময় আরো তথ্য জেনে নিতে পারেন। আর আপনার কাছে ফিরতি টিকেট ও হোটেল বুকিং এর কাগজ অবশ্যই থাকতে হবে।
ভিসা ছাড়া যাওয়া যাবে এবং অবস্থান করা যাবে এমন দেশগুলো হচ্ছে:
• এশিয়া মাহাদেশের মধ্যে ভুটান (যত দিন ইচ্ছা)
• শ্রীলংকা (৩০ দিন) আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে কেনিয়া (৩ মাস)
• মালাউই (৯০ দিন)
• সেশেল (১ মাস)
• আমেরিকা মাহাদেশের মধ্যে ডোমিনিকা (২১ দিন)
• হাইতি (৩ মাস)
• গ্রানাডা (৩ মাস)
• সেন্ট কিট্স এ্যান্ড নেভিস (৩ মাস)
• সেন্ড ভিনসেন্ট ও গ্রানাডাউন দ্বীপপুঞ্জ (১ মাস)
• টার্কস ও কেইকোস দ্বীপপুঞ্জ (৩০ দিন)
• মন্টসের্রাট (৩ মাস)
• ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপমালা (৩০ দিন)
• ওশেনিয়া মাহাদেশের মধ্যে ফিজি (৬ মাস)
• কুক দ্বীপপুঞ্জ (৩১ দিন)
• নাউরু (৩০ দিন)
• পালাউ (৩০ দিন)
• সামোয়া (৬০ দিন)
• টুভালু (১ মাস)
• নুউ (৩০ দিন)
• ভানুয়াটু (৩০ দিন)
• মাক্রোনেশিয়া তিলপারাষ্ট্র (৩০ দিন) অন্যতম।
এছাড়াও যেসব দেশে প্রবেশের সময় (on arrival) ভিসা পাওয়া যাবে সেগুলো হচ্ছে:
• এশিয়ার মধ্যে আজারবাইজান (৩০ দিন, ফি ১০০ ডলার)
• জর্জিয়া (৩ মাস)
• লাউস (৩০ দিন, ফি ৩০ ডলার)
• মালদ্বীপ(৩০ দিন)
• মাকাউ (৩০ দিন)
• নেপাল (৬০ দিন, ফি ৩০ ডলার)
• সিরিয়া (১৫ দিন)
• পূর্ব তিমুর (৩০ দিন, ফি ৩০ ডলার)
• আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে বুরুন্ডি, কেপ ভার্দ, কোমোরোস, জিবুতি (১ মাস, ফি ৫০০ জিবুতিয়ান ফ্রাঙ্ক)
• মাদাগাস্কার (৯০ দিন, ফ্রি ১,৪০,০০০ এমজিএ)
• মোজাম্বিক (৩০ দিন, ফি ২৫ ডলার)
• টোগো (৭ দিন, ফি ৩৫,০০০ এক্সডিএফ)
• উগান্ডা (৩ মাস, ফি ৩০ ডলার)।
তবে বাংলাদেশের এয়ারপোর্ট রওনা হবার সময় কিছু সুযোগ সন্ধানী অফিসার ভিসা নেই বা আপনার সমস্যা হবে এই মর্মে হয়রানি করতে পারে টু-পাই কামানোর জন্য। কেউ এসব দেশে বেড়াতে যেতে চাইলে টিকিট কেনার সময় আরো তথ্য জেনে নিতে পারেন। আর আপনার কাছে ফিরতি টিকেট ও হোটেল বুকিং এর কাগজ অবশ্যই থাকতে হবে।
bangla story: অনন্য এক রেকর্ডের অধিকারী হলেন সৌম্য সরকার!
bangla story: অনন্য এক রেকর্ডের অধিকারী হলেন সৌম্য সরকার!: শুধুমাত্র ব্যাটিং কিংবা বোলিং করে রেকর্ড বুকে ঠাঁই পাওয়া যায়, এমন চিন্তা করাটা ভুল। ভালো ফিল্ডিং করেও রেকর্ড বুকে জায়গা পাওয়া যায়। ঠিক ত...
অনন্য এক রেকর্ডের অধিকারী হলেন সৌম্য সরকার!
শুধুমাত্র ব্যাটিং কিংবা বোলিং করে রেকর্ড বুকে ঠাঁই পাওয়া যায়, এমন চিন্তা করাটা ভুল। ভালো ফিল্ডিং করেও রেকর্ড বুকে জায়গা পাওয়া যায়।
ঠিক তেমনই এক দৃষ্টান্ত দেখালেন বাংলাদেশের ক্রিকেটার সৌম্য সরকার। বৃহস্পতিবার স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বোলিং করেননি সৌম্য। ব্যাট হাতেও রান পাননি। মাত্র ২ রান করেন তিনি। কিন্তু ফিল্ডিং দিয়ে সবার নজর কাড়লেন সৌম্য।
স্কটল্যান্ডের ইনিংসের চারটি ক্যাচ ধরেন সৌম্য সরকার। যা বিশ্বকাপে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ক্যাচ ধরার রেকর্ড। সৌম্যর সঙ্গে এই তালিকাতে রয়েছেন ভারতের মোহাম্মদ কাইফ। ২০০৩ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার ইনিংসের চারটি ক্যাচ নেন কাইফ। অবশ্য সেটি ছিল দ্বিতীয় ইনিংসে। আর সৌম্য সরকার ক্যাচগুলো নেন প্রথম ইনিংসে।
ইনিংসের দশম ওভারে হাসিম গার্ডিনার ক্যাচ কভারে লুফে নেন সৌম্য। এরপর স্কটল্যান্ডের অধিনায়ক প্রিসটন মোমেনসনের ক্যাচ নেন ডিপ মিড উইকেটে। স্কটিশ অধিনায়কের ক্যাচ তালুবন্দি করার পর স্কটল্যান্ডের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক কাইল কোয়েটজার ক্যাচও নেন মিড উইকেটে। মাজিদ হকের ক্যাচ দিয়ে সর্বোচ্চ ক্যাচ ধরার তালিকায় নাম উঠান সৌম্য। স্কয়ার লেগ থেকে দৌড়ে এসে ড্রাইভ দিয়ে মাজিদ হকের ক্যাচটি নেন বাংলাদেশের নতুন এই সেনসেশন।
Wednesday, March 4, 2015
bangla story: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের ফল জানা যাব...
bangla story: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের ফল জানা যাব...: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য ২০১৩ সালের অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় ফল সবার জন্য উন্মুক্...
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের ফল জানা যাবে যেভাবে
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য ২০১৩ সালের অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় ফল সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বদরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ পরীক্ষায় ৩০টি বিষয়ে সারাদেশে ৪৭৩টি কলেজের ১৭৮টি কেন্দ্রে নিয়মিত এক লাখ ৫৭ হাজার ২২০ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। উত্তীর্ণ হয়েছেন এক লাখ ৩৬ হাজার ২৫৪ জন।
এ বর্ষের তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয় ২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে www.nu.edu.bd এবংwww.nubd.info এবং যে কোন মোবাইলে Message অপশনে গিয়ে nu<space> H1 <space> Roll No লিখে ১৬২২২ নম্বরে Send করলে ফল পাওয়া যাবে।
Location:
Dhaka, Bangladesh
bangla story: সুন্দরবনে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত ৩
bangla story: সুন্দরবনে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত ৩: সুন্দরবনে র্যাবের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' তিনজন নিহত হয়েছেন। র্যাবের দাবি, নিহতরা সুন্দরবনের কুখ্যাত সাগর-সৈকত বাহিনীর বনদস্যু।...
সুন্দরবনে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত ৩
সুন্দরবনে র্যাবের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' তিনজন নিহত হয়েছেন। র্যাবের দাবি, নিহতরা সুন্দরবনের কুখ্যাত সাগর-সৈকত বাহিনীর বনদস্যু।
বৃহস্পতিবার সকালে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ছাপড়ার খাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনাস্থল থেকে ১৮টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৫ রাউন্ড গুলি ও দস্যুদের ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
নিহতদের মধ্যে দুজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন সোহেল ও সাদ্দাম। অন্য একজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে র্যাব-৮'এর সিও লে. কর্নেল ফরিদুল আলম সমকালকে জানান, 'ছাপড়ার খাল এলাকায় বনদস্যু সাগর-সৈকত বাহিনী অবস্থান করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ওই এলাকায় র্যাব অভিযান চালায়। র্যাব সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে দস্যুরা গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় র্যাব। প্রায় আধঘণ্টা ধরে দুইপক্ষে বন্ধুকযুদ্ধ হয়। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যায় ৩ দস্যু। বাকিরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ১৮টি দেশি-বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৫ রাউন্ড গুলি ও সদ্যুদের ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।'
নিহতদের মরদেহ শরণখোলা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন লে. কর্নেল ফরিদুল আলম।
Labels:
150
Location:
Dhaka, Bangladesh
bangla story: আত্মসঙ্কটে বাঙালি বুদ্ধিজীবীরা
bangla story: আত্মসঙ্কটে বাঙালি বুদ্ধিজীবীরা: অমীমাংসিত ৪৭, বুদ্ধিজীবীদের আত্মসঙ্কট, সাউথ ব্লকের ষড়যন্ত্র- তিন রাহুর কবলে বাংলাদেশ। লাহোর প্রস্তাবের ৭৫ বছর পর শেষবারের মতো এবার বাঙালি ...
আত্মসঙ্কটে বাঙালি বুদ্ধিজীবীরা
অমীমাংসিত ৪৭, বুদ্ধিজীবীদের আত্মসঙ্কট, সাউথ ব্লকের ষড়যন্ত্র- তিন রাহুর কবলে বাংলাদেশ। লাহোর প্রস্তাবের ৭৫ বছর পর শেষবারের মতো এবার বাঙালি মুসলমান বুদ্ধিজীবীদেরকেই মীমাংসা করতে হবে শান্তি না যুদ্ধ- কোনটা পছন্দ। তাদের ভুলের বিরুদ্ধে নারাজির অধিকার পাবলিকের জন্মগত সত্ত্বেও ওরা সেটা মানছে না। এভাবে মারদাঙ্গা জীবন আর চলছে না।
৭৫ বছরের ইতিহাস বলছে, ৪৭-কে কেন্দ্র করে যতগুলো যুদ্ধ এবং দাঙ্গা, একসাথে যোগ করলে মাঝারি আকারের বিশ্বযুদ্ধের সমান। দেশ বিভাগের আগে ও পরের গণহত্যাগুলোর পরিসংখ্যান নেই। কোটি কোটি মানুষের দেশ হারানোর কষ্ট পরোয়া করেন না বুদ্ধিজীবীরা। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, অমীমাংসিত দেশ বিভাগের দৃশ্যপট পাল্টে দেয়ার সুযোগ বৃহত্তর বাংলার বুদ্ধিজীবীদের হাতেই ছিল। দিল্লি সব সময় দুই বাংলার রাওয়ালপিন্ডি এবং দুই বাংলা জমজ বোনের মতো। ভারতীয় আগ্রাসনের গভীরতা কখনোই বুঝতে চান না বুদ্ধিজীবীরা। দিল্লির গরু, সুপারি আর মতার ষড়যন্ত্রমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত জ্বলবে বাংলাদেশ।
ভুলের কিছুটা নমুনা। লাহোর প্রস্তাব ভালো কিন্তু মুসলিম লীগ খারাপ। ডাইরেক্ট অ্যাকশন ভালো, কিন্তু পাকিস্তান খারাপ। মুসলিম লীগ খারাপ, কিন্তু পাকিস্তান ভালো। জিন্না খারাপ, কিন্তু কেবিনেট মিটিং ভালো। ভাষা আন্দোলন ভালো, কিন্তু লাহোর প্রস্তাব ভালো না। যুক্তফ্রন্ট, মুসলিম লীগ কোনোটাই ভালো না বরং ছয় দফাই সব। সমাধান দেয়নি কাগমারি সম্মেলন, এনডিএফ চাই। গোলটেবিল ভালো, কিন্তু বেসিক ডেমোক্র্যাসি খারাপ? এরই ধারাবাহিকতায় একদলীয় ও বহুদলীয় গণতন্ত্র, বাংলাদেশের শরীরে জমজ সন্তানের মতো মাথা থেকে পা পর্যন্ত জোড়া। দিল্লি না রাওয়ালপিন্ডি, একবারো সঠিক সিদ্ধান্ত নেননি বুদ্ধিজীবীরা।
লাহোর প্রস্তাবের ৭৫ বছর পর, যে পর্যন্ত না ৪৭, ৭১ ও ৫ জানুয়ারির মীমাংসা হবে, তত দিন পর্যন্ত জেরুসালেম আর কাশ্মিরের মতো অমীমাংসিতই থাকবে বাংলাদেশ। এক একর জমি লালনপালনে পরিকল্পনা লাগে, ৫৬ হাজার বর্গমাইলের জন্য লাগে না? ’৭৪-এর মতো আবারো কতকাল র্যাব-পুলিশ দিয়ে জনজীবন চালাতে চায় আওয়ামী লীগ? বন্দুকের নল উত্তর হলে, আইয়ুব-এরশাদের দোষটা কোথায়? দেশ বিভাগের পর থেকে এদের নেতৃত্বে যুদ্ধ-দাঙ্গা অনেকটাই রুয়ান্ডা-বসনিয়ার মতো। একমাত্র পাগল আর শিশুই বলবে না, লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে নেই বাংলাদেশ।
যারা নিজেকে অস্বীকার করে, তারা কাউকেই স্বীকার করে না। তখন তাদের কাজ অন্যের দোষ খোঁজা। ধরে নিতে পারি, ইংরেজ উপনিবেশের নর্দমাগুলো ৫৬ হাজার বর্গমাইলেই শেষ করেছিল কংগ্রেস। সেই নর্দমার বিষেই বুদ্ধিজগতে ধস। এর ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়েছিল দেশ বিভাগে।
বারবার ভুল করা বুদ্ধিজীবীদের কাছে প্রশ্ন- এখন সমস্যা কোনটা? ৫ জানুয়ারিতে অবৈধ নির্বাচন করে ক্ষমতায় যায়নি ২০ দলীয় জোট। ৫ জানুয়ারির আগে বহু মানুষ পুড়ে মরার পর বার্ন ইউনিটের যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, সেই জাদুরকাঠি যার হাতে, তিনি কি তার দায়িত্ব পালন করেছেন? নিরপেক্ষ নির্বাচন না দিয়ে বরং বারবার বার্ন ইউনিটে যাওয়া জর্জ বুশের মিশন কমপ্লিটের মতো দুরভিসন্ধিমূলক। পশু না, আমরা মানুষ। ৪৭ ও ৭১ পারেনি, এবার ৫ জানুয়ারির জবাব প্রতিটি বাঙালি মুসলমান বুদ্ধিজীবীকে অবশ্যই দিতে হবে। প্রমাণসাপেক্ষে নির্বাচনজনিত গণহত্যারও বিচার হবে। ১৬ ডিসেম্বরের পর পাকিস্তান বিদায়, ৪৭ সাল থেকে ৭৪ পর্যন্ত একবারো সৈন্য নামাতে হয়নি ভারতে। আমাদের ইতিহাস কী বলে? প্রধান সমস্যা হলো, বুদ্ধিজীবীদের বুদ্ধিবৃত্তিতে ধস। ভোটের অধিকার ছিনতাইকারীদের কার্যালয় ঘেরাও না করে, করছে উল্টোটা।
যুদ্ধ-দাঙ্গায় যাদেরকে মরতে হয় তারা ভাগ্যবান। কিন্তু যারা বেঁচে যায় আমৃত্যু ওই স্মৃতি বহন করে। তাদের জীবন কখনোই স্বাভাবিক হয় না। দেশ বিভাগের পর জন্ম নেয়া আমিও তাদেরই একজন। জীবনের প্রথম অর্ধেক কাটল হিন্দু-মুসলমানের যুদ্ধ-দাঙ্গা আর দেশ ত্যাগের ধারাবাহিকতা দেখে। প্রথম নষ্ট অভিজ্ঞতা, ১৯৬৪-এর দাঙ্গা। বাবার মুখে শুনেছি, প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবসকে কেন্দ্র করে কলকাতা-নোয়াখালীতে ভয়ানক দাঙ্গা। ৫০-এ ক্ষতিগ্রস্ত আমার পরিবারও। পরপর ১৯৪৭, ৪৮, ৫০... লাগাতার মারদাঙ্গায় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানবসৃষ্ট দুর্ভোগের কারণ আলোচনায় না থাকলে আজকের সমস্যার সমাধান হবে না। একসাথে স্বাধীন হয়েও কোথায় চলে গেল ভারত! ভোটের ১৫ দিন পর্যন্ত বাক্সগুলো নির্বাচন কমিশনের জিম্মায় থাকে। ৬৭ বছরে এই কথা কি একবারো বলতে পেরেছি? বুদ্ধির গভীরতা এতটাই নিম্নমানের, প্রতিবারই যা চায়, কড়ায়-গণ্ডায় পায়; কিন্তু প্রতিবারই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করে।
৯৬ শতাংশ ভোট দিয়ে এরাই আনল পাকিস্তান, ওই রাতেই সিদ্ধান্ত পাকিস্তান ভালো না। ধর্মভিত্তিক দেশ বিভাগ ছাড়া মানবেই না, ৭২-এ পৌঁছে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি আর বিষ্ঠা এক সমান। এই রাজনীতির পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে জিয়াউর রহমান হলেন মুক্তিযুদ্ধের কলঙ্ক; কিন্তু ধর্মকে সংবিধানের অংশ করা এরশাদ হলেন সবচেয়ে ভালো। ৮৬-তে এরশাদ খারাপ, কিন্তু জামায়াত ভালো। ৯৬-তে এরশাদ ও জামায়াত দুইই ভালো। বুদ্ধিজীবীরা কী চান, জানেন তো? ৪৭ সালে সৃষ্ট বাংলা-পাঞ্জাবের শরীরে ছুরি চালিয়ে দুই ব্যাগ ভর্তি অদ্ভুত পাকিস্তান, ইতিহাসের নিকৃষ্ট কলঙ্ক। দুই হাজার মাইল দূরত্বে মাথা আর পা, মধ্যখানে কাশ্মিরের ক্যানসার নিয়ে রামরাজত্ব ভারতের। এই দৃষ্টান্ত পৃথিবীর কোথাও নেই।
পৃথিবীর আর কোথাও এত অল্প সময়ে এতগুলো যুদ্ধ, দাঙ্গা আর দেশত্যাগের ঘটনা ঘটেনি। দুইবার দেশ কর্তনও হয়নি। তখন দাবি ৯ + ৫ = ১০। আমার কথা, ডাইরেক্ট অ্যাকশন সবচেয়ে বড় ভুল। ওদের চোখে ডাইরেক্ট অ্যাকশনই একমাত্র পথ। লাহোর প্রস্তাবের বিকল্প অবশ্যই ছিল। বিধানসভা পরপর দুই দফা তাদের দখলেই। দিল্লির কেবিনেট মিটিংয়েই কংগ্রেসের উদ্দেশ্য পরিষ্কার। ইতিহাস বলে, অস্পৃশ্যদের মতো বাঙালি মুসলমানদেরকেও দীর্ঘ সময় বঞ্চিত রেখেছিল কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা। ফলে বুদ্ধি প্রয়োগে নেতিবাচক প্রভাব অবশ্যই পড়েছিল ভারত ভাগের সময়। ইতিহাসের এই অধ্যায়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাঁটি হাঁটি পা পা করে দুই দফা বিধানসভার মতা পাওয়ার মতো অসম্ভব সম্ভব করলেও, আসল অঙ্কে ভুল করলেন বুদ্ধিজীবীরা। অর্থাৎ ৬৭ বছর যা ঘটছে, অতীতের বুদ্ধিহীনতার প্রতিচ্ছবি।
যে মুহূর্তে কনফেডারেশন সরকারের দাবি বাতিল হলো, বৃহত্তর বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর তখনই সুযোগ ছিল প্রত্যক্ষ সংগ্রাম না করে পুরনো দাবিতে ফেরা। প্রয়োজনে দুই-চার বছর অপেক্ষা করলে ক্ষতি ছিল না। সে রকম হলে ইংরেজরা যেনতেন ও অসম দেশ বিভাগ চাপিয়ে দিতে পারত না। কাশ্মির কিংবা ছিটমহলেরও প্রশ্ন উঠত না। একই অস্থিরতার পুনরাবৃত্তি ৭১-এ। এখনই এই মুহূর্তে সব সমস্যার সমাধান চাই। মাত্র ৯ মাসে স্বাধীনতা পৃথিবীতে একটাই। এরপর রাওয়ালপিন্ডিকে সরিয়ে সাউথ ব্লকের কবলে। সারা পৃথিবীতেই মুসলমান, তার মানে এই নয়, সব দেশেই মুসলমানদের জন্য আলাদা-আলাদা দেশ বানাতে হবে। ভুলগুলো যত দিন না আলোচনায় আসবে, তত দিন পর্যন্ত আজকের সমস্যার গোড়া খুঁজে পাবে না।
পাকিস্তানি আর বাঙালিদের ভাষা-সংস্কৃতি যে ভিন্ন, তারা জানতেন। তখনই সাবধান হলে ৬৭ বছর ধরে যা হচ্ছে, হতো না। বাংলা ভাগ হলেও অল্পসংখ্যক মুসলমান ভারত ছেড়েছে, এপার বাংলার হিন্দুদের সংখ্যা ৩৮ থেকে কমে ৮ ভাগের প্রধান কারণ, বারবার যুদ্ধ-দাঙ্গায় অনিরাপত্তাবোধ। সত্য যে, ভারত ভাগের পক্ষে ৯৬ ভাগ ভোট বাঙালিদের আর ৪৯ ভাগ অবাঙালিদের। আমার অভিজ্ঞতায়, এদের রাজনীতির প্রধান পুঁজি লাঠি বনাম ভারতীয়দের বুদ্ধির সুব্যবহার। আজকের সঙ্কটের সূত্র ধামাচাপা দিলে আরো যুদ্ধ, আরো দাঙ্গা হবে। অন্যথায় ৪৭-এর মাত্র ২৪ বছর পর আরেকটা যুদ্ধ করতে হতো না।
ডাইরেক্ট অ্যাকশনের কারণেই রেডক্লিফেকে জরুরিভিত্তিতে তলব করে সৃষ্টি করা হলো অদ্ভুত দু’টি দেশ, যার শরীরটা মধ্যখানে আর মাথা ও পা দুই হাজার মাইল দূরত্বে। বাংলা-পাঞ্জাবকে শ্মশান করা দেশ বিভাগের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বহু বছর গবেষণা ও বিতর্ক চলতে পারে। কয়েক দিনে খুন হলো প্রায় ১৫ লাখ, রিফিউজি আরো লাখ লাখ, জন্ম থেকেই জ্বলছে সবগুলো দেশ। কাশ্মিরসহ ভারতের অনেক অঙ্গরাজ্যের অবস্থা ৭১-এর মতো। আমাদের রসদ জোগানো ভারতের ৭১ ঠেকানোর দায়িত্ব, সর্বদাই আওয়ামী লীগের ঘাড়ে। এই উপলে উভয় পরে সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র এবং এটাই বাংলাদেশের এক নম্বর সমস্যা।
মধ্যরাতেই কলকাতায় বুদ্ধিজীবীদের বৈঠক, হায় হায়! পকিস্তান ভালো না, আলাদা হতে হবে। আমার প্রশ্ন- ডাইরেক্ট অ্যাকশনের আগে ছিলেন কোথায়? যুদ্ধ, খুনাখুনি ও দাঙ্গায় কেটে গেলো ৪৭, ৪৮, ৫০, ৬২, ৬৪, ৬৫, ৭১...। ৯৬ শতাংশ ভোট দিয়ে পাকিস্তান আনল, কিন্তু পাকিস্তান ভালো না। ভাঙো ১৪৪ ধারা, পেটাও জিন্নাকে। রাতারাতি ইতিহাস গড়ল ভাষা আন্দোলন। তারপর? এবার যুক্তফ্রন্ট করে দেখিয়ে দিতে হবে। যুক্তফ্রন্ট হলো, তারপর? দেশ বিভাগ করা বুদ্ধিজীবীদের মারামারি-কাটাকাটি বাড়ল দেড়শ’ দ্বিগুণ। একজন আরেকজনের মুখ দেখে না। একজন আরেকজনের ভোটকেন্দ্রে ডাকাতি করতে এক ডজন জাহাজ নিয়ে হাজির হয়। আনল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগ, ন্যাপ... কাগমারি সম্মেলনেই স্বায়ত্তশাসন কায়েমের অবস্থা সৃষ্টি করলে আইয়ুব খানের আগমন। যুক্তফ্রন্ট ফেল, তারপর? হুজুর ভাসানী নাম দিলেন নাথিং ডুইং ফ্রন্ট, অর্থাৎ এনডিএফ। সেটাও যথাসময়ে ফেল। আইয়ুব খানের স্বৈরগণতন্ত্রের বেসিক ডেমোক্র্যসির সাথে যোগ দিলেন মোনায়েম খান ও সবুর খানের মতো বড় বড় শিংওয়ালা বুদ্ধিজীবীরা। ওটাই স্বৈরগণতন্ত্রের প্রসব। সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুতে মুজিবের প্রত্যাশিত চন্দ্রগ্রহণ কাটল। মরেনি মুসলিম লীগ, তাই ছয় দফাকে কেন্দ্র করে আবারো দ্বিখণ্ডিত। এক ভাগ চায় পাকিস্তান, অন্য ভাগ বাংলাদেশ। ধর্মভিত্তিক নয়, বরং এবার নিজেদের মধ্যেই দুই নম্বর ডাইরেক্ট অ্যাকশন।
সীমান্তের কাছে হওয়ায়, ৬৪-এর ভয়াবহ দাঙ্গা দিয়ে আমার ক্ষতবিক্ষত স্মৃতির ভাণ্ডারে প্রথম নষ্ট অভিজ্ঞতার শুরু। আসাম থেকে মুসলমানের ঢল আর গভীর রাতে এপার থেকে হাজার হাজার হিন্দু দেশ ছাড়ে। ৫০-এরপর ৬০-এর দশকে আবারো পাল্টে যেতে থাকল শহরের চেহারা, সাইনবোর্ড, শিক্ষাঙ্গন ইত্যাদি। কৈশোরের লণ্ডভণ্ড অভিজ্ঞতা। ৪৮-এর পর কাশ্মিরকে কেন্দ্র করে আবারো ৬৫-এর যুদ্ধে ভয়ানক সাম্প্রদায়িক অসম্প্রীতিতে মুখোমুখি দুই প। যুদ্ধ হয় দুই পাকিস্তানে, বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এপারের হিন্দুরা (ওপারের ক্ষতিগ্রস্তরা তুলনামূলক কম)। ৬৫-কে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হলো ঐতিহাসিক শত্রুসম্পত্তি, যার পরিমাণ পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত এক নম্বর। পাকিস্তান আনল, কিন্তু ছয় দফার দাবিতে ফের দেশ অচল। এবার কংগ্রেস নেই; বরং বাঙালি বনাম বাংলাদেশী জাতিয়তাবাদের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে আরেকটা হলোকস্ট।
৬০-এর দশকে লাগাতার আন্দোলন, মিছিল-মিটিংই যেন জীবন। একবার ছয় দফা আবার ১১ দফা। স্বায়ত্তশাসন বনাম স্বাধীনতার মধ্যে তালগোল পাকিয়ে ফেলা। দম নেয়ার ফুরসত নেই। দেশ বিভাগের ২৪ বছর পর, ৭১-এ আবারো বিশ্বকাপ জিতল; কিন্তু সেটাও অনেকেরই পছন্দ নয়। কাশ্মির নই, কিন্তু কম কিসে?
৪৭-এর মতোই ৭১ এসেছিল বহু অমীমাংসিত প্রশ্ন নিয়ে। রাওয়ালপিন্ডিকে সরিয়ে এবার দিল্লি। স্বাধীন হওয়ামাত্র রক্ষীবাহিনী, বাকশাল, র, কম্বলচোরদের জয়জয়কার। সকালে রাষ্ট্রপতি, দুপুরে প্রধানমন্ত্রী, বিকেলে আবার রাষ্ট্রপতি- কোনটা চান মুজিব নিজেও জানেন না; কিন্তু মানুষের কী হবে, সেটা ভাবনা নয়। নব্য দখলদার, কালোবাজারারি আর রক্ষীবাহিনীর মিশনে অতিষ্ঠ জীবন। সিরাজ শিকদার হত্যা মুজিবতন্ত্রের অন্যতম চমক। ৭৩ সালে তিন টাকা সের চিনি, ৭৪ সালে ৩৩ টাকা। এক দিকে দুর্ভি, অন্য দিকে ফুলের মালা আর মানপত্র নিয়ে ব্যস্ত মুজিব। টাইম ম্যাগাজিনে জালপরা বাসন্তীর ছবি নিয়ে হইচই। যুদ্ধ ফেরত উচ্ছৃঙ্খল বাহিনীগুলোর খুনাখুনিতে ভয়ঙ্কর অবস্থা আমার স্মৃতির ভাণ্ডারে অন্যতম নষ্ট অভিজ্ঞতা। কে অস্বীকার করবে সাড়ে তিন বছরের দুঃশাসন? আমার অভিজ্ঞতায় বাঙালি বুদ্ধিজীবীরা সর্বদা ১০ নম্বর মহাবিপদ সঙ্কেতের মতো। রুয়ান্ডা ও বসনিয়ার কথা বলি, কিন্তু আমাদের বেলায় কোনটা কম!
৭২ থেকে ৭৫-এর জবাব দিতে চলে গেল ৯০। বর্তমান দুর্ভোগের জন্য দায়ী ছয় দফা বনাম স্বায়ত্তশাসনের মধ্যে আজ পর্যন্ত মীমাংসা না করা। রাজাকার বনাম মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা স্পষ্ট না করা। তর্কবিদেরা বলবেন, বঙ্গবীর রাজাকার হলে গোলাম আযম মুক্তিযোদ্ধা! ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের রমরমা সার্টিফিকেটবাণিজ্য তাই আওয়ামী বুদ্ধিজীবীদের মতে এ কে খন্দকার একটা রাজাকার। পাঠ্যপুস্তক থেকে ভাসানী, জেনারেল ওসমানী ও বঙ্গতাজের মতো গর্বিত সন্তানেরা উধাও? ইনডেমনিটি দিয়ে স্বাধীনতার ঘোষক সাব্যস্ত করতে হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কারো পৈত্রিক সম্পত্তি। ‘জয়বাংলা’ বনাম ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদের’ যুদ্ধ হেঁটে হেঁটে আসেনি। হুটু-টুটসিদের মতো নিজেরাই খুনাখুনি, আর সব দোষ ৭৫-এর? ভেবেছিল ৯০ পার হলেই বাংলাদেশ এমন গণতন্ত্র পাবে, ব্রিটেনের সংসদীয় গণতন্ত্র পর্যন্ত লজ্জা পাবে। দুই মহিলার নেতৃত্বে এরশাদের অবস্থা খান সাহেবদের মতো ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি। বিদেশী দূতদের জানা উচিত, সংলাপ কত সহজলভ্য, ৯০-এ প্রমাণ করেছেন দুই নেত্রী। এরশাদকে টেনে নামানোর জন্য দুই নেত্রীর ডাইরেক্ট অ্যাকশনের ঘটনা কে না জানে! ৯১ সাল থেকে স্বাধীনতার ঘোষক প্রশ্নে দুই-সতীনের চুলাচুলির শুরু। বুদ্ধিজীবীরা বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্র হলো, কিন্তু ৯২ সালে এসব কী? বাবরি মসজিদ ভাঙ্গল ওই পারে আর গণহত্যা এই পারে? পাকিস্তানের চেয়ে দীর্ঘ সামরিক শাসন আর স্বৈরগণতন্ত্রের চেহারা দেখে বুদ্ধিজীবীরা গান গায়- ভুল সবই ভুল, এই জীবনের পাতায় পাতায় যা লেখা সবই ভুল...।
৮৬ থেকে যা পেলাম। জামায়াত বহুদলীয় গণতন্ত্র, কিন্তু এরশাদ মহাস্বৈরাচার। একবার জামায়াত সন্ত্রাস, পরেরবার এরশাদ। বহুদলীয় গণতন্ত্র ভালো, কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান একটা খাঁটি রাজাকার। ক্ষমতার প্রশ্নে জামায়াত আর জাতীয় পার্টি- দুই নেত্রীর চোখে দুই কোহিনূর। এক দল ধরে, অন্য দল ছাড়ে। ক্ষমতার প্রয়োজন হলেই একজনকে পাঠায় ফাঁসির মঞ্চে, আরেকজনকে নামায়। ফাঁসির সুইচ অন-অফ খেলা, দুই নেত্রীর ক্ষমতায় যাওয়ার কৌশল। তার পরেও ৫ জানুয়ারি নিয়ে বুদ্ধিজীবীদের বক্তব্য কী প্রমাণ করে?
ছয় দফা যে স্বায়ত্তশাসন বা স্বাধীনতা কোনোটাই নয়, উত্তর- ৯১ থেকে ২০১৫-এর অদ্ভুত গণতন্ত্র যেখানে সংসদ মানেই বিরোধী দল রাস্তায়। দুই দফায় ৩০৩ দিন আওয়ামী হরতালের বিশ্বরেকর্ড এখন পর্যন্ত ভাঙতে পারেনি বিএনপি। জনতার মঞ্চ বানিয়ে প্রত্য সংগ্রাম দিবসের রক্তারক্তির রেকর্ডও ভাঙতে পারেনি ২০ দলীয় জোট। বাংলাভাই অবশ্যই খারাপ, কিন্তু আওয়ামী লীগের অস্ত্র আর ক্যাডার সরবরাহকারী এরশাদ শিকদার নিশ্চয়ই ধোয়া তুলসিপাতা নন। নিজেদের গায়ে গ্রেনেড হামলার মল; কিন্তু ২৮ অক্টোবরে আওয়ামী সন্ত্রাসের মুখোশ খুলতে ব্যর্থ বিএনপি। গানপাউডার ছিটিয়ে আগুন, পেট্রলবোমার রেকর্ড এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগেরই সম্পদ। একটা পড়লে ১০টা লাশ চাই, শেখ হাসিনা ঘোষণা দিলেন মানুষ মারার রাজনীতির (ইউটিউব)। ওই তো শুরু। তুলনামূলকভাবে বিএনপির জাতীয়তাবাদ অনেকটাই জিন্নার পোকায় খাওয়া পাকিস্তানের মতো, ধুঁকে ধুঁকে মরছে। এত বছর মতায় থেকেও না জাতীয়তাবাদ, না জাতীয় কবির অস্বস্তি, কোনোটাই প্রতিষ্ঠা করতে পারলো না জাতীয়তাবাদী দল।
এরশাদ গেল কিন্তু মারামারি-কাটাকাটি আগের মতোই। তত্ত্বাবধায়ক সরকার হলেই ওঁম শান্তি! সংসদীয় গণতন্ত্র না এসে যাবেটা কোথায়! জনতার মঞ্চ থেকে লাগাতার হরতাল আর মানুষ খুনের ঘোষণা দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আদায় যেন আরেকটা ৪৬। সংসদ খালি, কয়েক দিন পরপরই হরতাল। রাস্তায় মুখোমুখি গানপাউডার বনাম জলকামান গণতন্ত্র? বুদ্ধিজীবীরা বলেন, ১-১১ এলেই সব ঠিক। তারপর? ৪৭-এর মতো আবারো বিদেশীরাই ঠিক করল, ২০০৮ সালে জিতবে শেখ হাসিনা, হারবে খালেদা জিয়া। মাইনু-ফকরু বললেন- আসেন বসি, ঘোড়া দিয়েছে প্রণববাবু, ঘোড়ায় বসে আলাপ করি। সাউথ ব্লকের প্রেসক্রিপশন পূরণ হলেই ওঁম শান্তি। প্রথম শর্ত, বিডিআর নির্মূল করে সীমান্তের দখল পরিবর্তন। দ্বিতীয় শর্ত, ভারতের স্বাধীনতাকামীদের ঠেকাতে ভবিষ্যতের যেকোনো উৎপাত দমনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও ইনডেমনিটি। সাউথ ব্লকের বিরুদ্ধে যেকোনো সংগ্রাম শক্তহাতে দমনের আইন সংশোধনীতে থাকতে হবে। ১৭৫৭ সালের মতো আরেক খায়রুল হককে খুঁজে পেতে এক মুহূর্তও দেরি করল না নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বুদ্ধিজীবীরা। ৩২ নম্বর ট্রাস্টের অর্থগ্রহণ বনাম ১৫তম সংশোধনী পাস, আদালতে অবশ্যই কনফিক্ট অব ইন্টারেস্ট। পলাশির সেনাপতিরা অস্ত্র সমর্পণ করলে সর্বসম্মতিক্রমে আবারো জ্বলে উঠল বাংলাদেশ।
সাতটি মহাদেশে সাত রকমের সমস্যা, বাংলাদেশে একসাথে সব মহাদেশের সব সমস্যা। সিমলা চুক্তি থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি, এখানে নেই এমন কোনো সমস্যা পৃথিবীতে নেই। ৪৭-এর আগে এবং ১-১১-এর পর, বুদ্ধিজীবীদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি জীবন। বাকশালকে পরাজিত করার মতো অভূতপূর্ব শাসনতন্ত্র প্রসব করল ৫ জানুয়ারি। ১-১১ আনা বুদ্ধিজীবীরা মাথা চুলকায়। সব করলাম ভাই, উকুন গেল না। মনে হয় উকুন না, মাথার মধ্যে শুঁয়োপোকা। চাইলাম গণতন্ত্র, এসে গেল মনমোহন-পুতিনের উন্নতিতন্ত্র। উন্নতি ধুয়ে কি পানি খাবো? ব্রিটিশ-পাকিস্তান সব দেখলাম; কিন্তু এই রকম উন্নতি জীবনেও দেখেছি? দেখেন খবরের কাগজগুলো কী লেখে! শোনেন টকশোতে কী বলে! ১০ বছরে কত মানুষ খুন হলো, ভাবতে পারেন? ভাই! রুয়ান্ডা-বসনিয়া ফেল! ভুল সবই ভুল...। ১৫তম সংশোধনী নাটকের সর্বশেষ পর্ব। যাদের সাথে একাধিকবার সংসদে এবং বিরোধী দলে, সেই জামায়াতের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের মেনুফেস্টোতে তিন নম্বর ডাইরেক্ট অ্যাকশনের ঘোষণা। যারা মেন্ডেলার ইতিহাস পড়েছেন, নিশ্চয়ই জানেন, বর্ণবাদ সমস্যা সমাধানে তার ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা। ঠিক তার উল্টো, দেশটাকে রুয়ান্ডা-বসনিয়া বানানোর জন্য আওয়ামী লীগের এই একটি সিদ্ধান্তই যথেষ্ট। যুদ্ধাপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে মুসলিম লীগ নির্মূলের ধারবাহিকতায় জামায়াত-বিএনপি নির্মূলই লক্ষ্য। কৃতকার্য হলে ২০৪১ পর্যন্ত মতার গ্যারান্টি। সুতরাং নামানো হলো ইমরান সরকারের নামে র-বাহিনী। সুজাতা সিংয়ের আগমনে, গণতন্ত্রের চেহারা হলো ৫ জানুয়ারির মতো। সুজাতার প্রেসক্রিপশন, এরশাদকে সিএমএইচে ঢুকিয়ে নির্বাচনের শক দাও। শক খেয়েই এরশাদ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা। এরই নাম সাউথ ব্লক- এই আচার যে খায়নি, বুঝবে না কত ঝাঁঝ। বুদ্ধিজীবীদের একাংশের স্বপ্নভঙ্গ ছয় দফা, ১১ দফা, ৭১... ভুল? মধ্যরাতের টকশোতে দুই দল বসে ‘অদৃশ্যের’ সাথে যুদ্ধ করে। এই জন্য লাইভ মারামারিও করেন। করের টাকায় তিন মাস পরপর মিলিয়ন ডলারের বকপক্ষিটি উড়ে এসেই ডিজিটাল উন্নতি আর নতুন নতুন সন্ত্রাসের ফর্মূলা ঢুকিয়ে দিয়ে হাওয়া। প্রমাণ হয়েছে, গণ্ডগোল বাধানোই বকপক্ষিটির কাজ। আওয়ামী বুদ্ধিজীবীদের দাবি- গণতন্ত্র হচ্ছে ফিউডালিজমের মতো, ‘রাজা লুই’ যা বলবে, সেটাই আহেলি কিতাব। কম গণতন্ত্র, বেশি উন্নতি; অবশ্যই ভিশন-২০২১ ও ২০৪১ হবে রাশিয়া ও চীনের মতো। যাদের পছন্দ না, নির্মূল করা হবে। এই উপলে যা করার, দেখিয়ে দেবো। দুঃখে অনেকেই লুকিয়ে লুকিয়ে গান করেন, ভুল সবই ভুল...।
ছয় দফা স্বাধীনতা নাকি স্বায়ত্তশাসন প্রশ্নে যত দিন সমঝোতা না হবে তত দিন ৭১ প্রশ্নবিদ্ধ যুদ্ধ রূপে বহাল থাকবে। ইতিহাসে এর স্থায়ী ঠিকানা কখনোই হবে না। কারণ ভারতীয়রা এর নাম দিয়েছে চতুর্থ ইন্দো-পাক যুদ্ধ এবং সব প্রশ্নের উত্তর এখানেই। ৪৭ থেকে ৭১, দুই বাংলা যত দিন দিল্লিমুক্ত না হবে, তত দিন মানবসৃষ্ট দুর্যোগ কাটবে না। দিল্লির সাথে দুই বাংলার দূরত্ব বনাম দুই বাংলার নৈকট্য, দুই হাজার মাইল দূরত্বে দুই পাকিস্তানের মতোই অদৃশ্য অভিশাপ। আওয়ামী লীগ যত দিন থাকবে, ভারতের সাথে ভেজাল পররাষ্ট্রনীতির নাড়িকর্তন অসম্ভব। ভারতের পাকস্থলির মধ্যে আমরা, হজম করে ফেলেছে। ভারতের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, আওয়ামী লীগ মতায় না থাকলে পশ্চিমবঙ্গসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য টুকরা-টুকরা হবে। আওয়ামী লীগের প্রতিশ্রুতি, অখণ্ডতা বজায় রাখতে সব করবে। এই অদৃশ্য শৃঙ্খল যত দিন না আলোচনায় আসবে, জ্বলবে বাংলাদেশ। সুতরাং ২০৪১ সাল পর্যন্ত যতবার নির্বাচন হবে, ভারতের প্রয়োজনে প্রতিবারই জিতবে এরা। ৫ জানুয়ারি সর্বশেষ প্রমাণ। ৪৭, ৭১, ৫ জানুয়ারি ধারবাহিকভাবে কংগ্রেসের কর্ম। এই সত্য যত দ্রুত উপলব্ধি করবে, তত দ্রুত নিভবে আগুন। তাদের দুই প্রেসক্রিপসন- হয় সিকিম, নয় ব্রিটিশ উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে গণজাগরণ জরুরি। বারবার প্রমাণ হয়েছে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে সাউথ ব্লকের ষড়যন্ত্রে গরু, সুপারি আর মতার মোহমুক্তি সম্ভব না। তর্কবিদেরা বলবেন, দিল্লির উপনিবেশবাদের কারণেই রাওয়ালপিন্ডি বিদায়।
বারবার বার্ন ইউনিটের উত্তাপ অনুভবে ব্যর্থ ভিশনারিরা, হ্যামিলনের বংশীবাদকের মতো। এরাই পৃথিবীর বহু দেশে বিএনপি-আওয়ামী লীগ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। এমনকি পাকিস্তানি বা ভারতীয়রা বিদেশের মাটিতে দেশীয় রাজনীতি করে না। ভারতীয়রা সব সময় দেশকে তুলে ধরার কাজে নিয়োজিত, পাকিস্তানিরা সাতে-পাঁচে নেই। একমাত্র বাঙালি কমিউনিটিতেই ঘরে ঘরে বিএনপি-আওয়ামী লীগ, বাংলা পত্রিকার ঢল। সেপ্টেম্বর মাস এলে স্বরূপে বিকশিত হয় কেনেডি এয়ারপোর্টে। খালেদা-হাসিনার ছবি নিয়ে মারামারি শুরু করলে এয়ারপোর্টের পুলিশ মধ্যখানে দাঁড়ায়। বুদ্ধিবৃত্তিতে খরার প্রভাব, দূরদেশেও।
এই দফায় ৫ জানুয়ারির ফ্যাসিজমকে জোর করে গণতন্ত্র বলে চালিয়ে দেয়ার দানবীয় চেষ্টা। এদেরকে সাহায্য করছে প্যারোলে থাকা লাখ লাখ আওয়ামী শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও ছাত্ররূপী সন্ত্রাসীরা। এরাই পরপর নেহেরু, ইন্দিরা এবং প্রণবের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছিল। আবারো কংগ্রেসের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে ৫ জানুয়ারি কায়েম করেও বুঝতে অক্ষম। অবাঙালি নয়, বারবার বাঙালি মুসলমানেরাই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে আর সব দোষ খান সাহেবদের? জঙ্গিবাদের সমালোচনা করি; কিন্তু সংসদীয় জঙ্গিবাদ যে কত ভয়ঙ্কর- প্রমাণ বাংলাদেশ।
মহাত্মা, লিয়াকত আলী খান, মুজিব, ইন্দিরার করুণ পরিণতি কাম্য নয়। বেঁচে থাকবে এবং বাঁচতে দেবে। স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি এবং পরিবার নিয়ে শান্তিতে থাকার অধিকার প্রতিটি নাগরিকের জন্মগত। এখানে হাত দিলেই পুড়বে। যারাই অতীত থেকে শিক্ষা না নিয়ে বারবার ডাইরেক্ট অ্যাকশনের ভুল করে, বলছি সাধু সাবধান!
মিনা ফারাহ : নিউইয়ক প্রবাসী লেখক
ইমেইল : farahmina@gmail.com
ওয়েবসাইট : www.minafarah.co
Labels:
150
Location:
Dhaka, Bangladesh
Subscribe to:
Comments (Atom)









