Tuesday, March 3, 2015

কালো তাজমহল!

তাজমহলকে ঘিরে থাকা নানা মিথের মধ্যে সবচেয়ে রহস্যময় মিথটা হলো অসমাপ্ত দ্বিতীয় তাজমহলের গল্প। মোগল সম্রাট শাহজাহান নাকি যমুনা নদীর অন্য পারে কালো মার্বেল পাথরে তাজমহলের আরেকটা অনুকৃতি তৈরি করতে চেয়েছিলেন। শাহজাহান কেন আরেকটা তাজমহল তৈরি করতে চেয়েছিলেন? আর সাদা তাজমহলের অনুপম সৌন্দর্যের বদলে কেনই বা কালো তাজমহল? টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে জানিয়েছে।

সবাই জানেন সম্রাজ্ঞী আরজুমান্দ বানু বেগম বা মমতাজ মহলের প্রতি প্রেমের নিদর্শন হিসেবে সম্রাট শাহজাহান তাজমহল নির্মাণ করেন। তাজমহলের নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৬৩১ সালে, শেষ হয় ১৬৫৩ সালে। কথিত আছে, স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির কাজও শুরু করেছিলেন শাহজাহান নিজেই। কিন্তু ছেলে আওরঙ্গজেব তাঁকে আগ্রার দুর্গে বন্দী করে রাখায় সেই কাজ আর শেষ করতে পারেননি তিনি। দুর্গের জানালা দিয়ে দূর থেকে তাজমহল দেখতে দেখতে সেখানেই মারা যান শাহজাহান। ১৬৬৬ সালে মৃত্যুর পর শাহজাহানকেও স্ত্রী মমতাজ মহলের সঙ্গে একই সমাধিতে সমাহিত করা হয়।

তাহলে দ্বিতীয় তাজমহল বা কালো তাজমহলের কথা এল কোথা থেকে? এই গল্পের শুরু ফরাসি পর্যটক জ্যঁ ব্যাপটিস্ট টাভারনিয়ারের ভ্রমণকাহিনিতে। ১৬৪০ ও ১৬৫৫ সালে মোগল রাজধানী আগ্রায় ভ্রমণ করেছিলেন টাভারনিয়ার। এই পর্যটক লেখেন, সম্রাট শাহজাহান যমুনার অপর পারে নিজের সমাধিক্ষেত্রের নির্মাণকাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু নিজের ছেলেদের সঙ্গে লড়াই শুরু হওয়ায় তিনি তা শেষ করতে পারেননি। স্থানীয় লোককথায় এটাও বলা হয়ে থাকে যে শাহজাহান যমুনার ওপর একটি সেতু বানিয়ে নদীর দুই পারে নিজের ও স্ত্রীর সমাধিকে সংযুক্তও করতে চেয়েছিলেন। কালো তাজমহলের মিথ আরও ঘনীভূত হয় ১৯ শতকে এসিএল কারলেইলি নামের এক ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ যমুনার পারে একটি পুকুরে কালো মার্বেল খুঁজে পাওয়ার দাবি করার পর।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, সম্রাট শাহজাহান তাঁর প্রপিতামহ সম্রাট বাবরের তৈরি মাহতাব বাগকে সংস্কার করে তাজমহল কমপ্লেক্সের সঙ্গে মিলিয়ে দিতে স্থপতিদের অনুরোধ করেছিলেন। বলা হয়ে থাকে, এটাই পরিকল্পিত দ্বিতীয় বা কালো তাজমহল নির্মাণের স্থান ছিল। এ ছাড়া তাজমহলের মধ্যে শাহজাহানের সমাধিটির অবস্থান বিবেচনা করলেও এই ধারণা বদ্ধমূল হয় যে তিনি স্ত্রীর সঙ্গে একই সমাধিতে সমাহিত হতে চাননি। কেননা, পুরো তাজমহলের নকশায় চূড়ান্ত রকমের প্রতিসাম্য থাকলেও শাহজাহানের সমাধিটি সমাধিঘরের পশ্চিম দিকের দেয়ালের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীনভাবে বানানো। কিন্তু মমতাজ মহলের সমাধি ওই ঘরের ঠিক মাঝখানে। এটা দেখে মনে করা হয়, এখানে কেবলই মমতাজ মহলের সমাধিই হওয়ার কথা ছিল এবং শাহজাহানের সমাধিটি পরে যুক্ত করা হয়েছে।

এসব তথ্য-উপাত্ত আর বর্ণনায় মনে হতেই পারে যে শাহজাহান আরেকটি কালো তাজমহল বানাতে চেয়েছিলেন নিজের সমাধির জন্য। কিন্তু ইতিহাসবিদেরা সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। কেননা, কেবল ফরাসি পর্যটক টাভারনিয়ারের লেখা ছাড়া আর কোথাও এমন দাবির পক্ষে প্রমাণ মেলেনি। প্রত্নতাত্ত্বিক খননেও যমুনার অন্য পারে এমন কোনো নির্মাণ প্রকল্পের দেখা মেলেনি। আর ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদের কালো মার্বেল পাওয়ার দাবিও পরে নাকচ হয়ে গেছে। কেননা, গবেষণায় প্রমাণ হয়েছে, মাহতাববাগের এক পুকুরে পাওয়া ওই মার্বেলগুলো আসলে সাদা মার্বেলই ছিল। কালের বিবর্তনে মাটির নিচে সেগুলো কালো দেখাচ্ছিল, এই যা।

কিন্তু ইতিহাস যা-ই বলুক না কেন, কালো তাজমহলের ধারণাটি অনেক শিল্পীকেই অনুপ্রাণিত করেছে। যমুনার এক পারে সাদা মার্বেলের তাজমহলে মমতাজ মহলের সমাধি এবং অন্য পারে কালো মার্বেলে সম্রাট শাহজাহানের সমাধি! আর যমুনার ওপর দিয়ে একটা রুপালি সেতুতে এপার-ওপার যাতায়াত! এই চিত্রকল্প তাজমহলের মতো অনুপম স্থাপত্যের বিশালত্বের সঙ্গে যথার্থই মানানসই মনে হয়েছে অনেক শিল্পীর কাছেই। অনেক শিল্পীই কালো তাজমহলের ছোট্ট অনুকৃতিও বানিয়েছেন এই গল্পের অনুপ্রেরণা থেকেই।

bangla story: সেনা অভ্যুত্থান, গৃহযুদ্ধ না গণতন্ত্র, কোন পথে বাং...

bangla story: সেনা অভ্যুত্থান, গৃহযুদ্ধ না গণতন্ত্র, কোন পথে বাং...: বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমাগোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশ ক...

সেনা অভ্যুত্থান, গৃহযুদ্ধ না গণতন্ত্র, কোন পথে বাংলাদেশ?

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমাগোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশ কি দীর্ঘমেয়াদি গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে নাকি সামরিক শাসনে আবার ফিরে যাচ্ছে, নাকি অংগ্রহণমূলক গণতন্ত্রে ফেরার আন্দোলন জোরালো হচ্ছে- এরকম আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
সম্প্রতি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মানবাধিকার বিষয়ক উপ-কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিশ্চিয়ান দান প্রেদা নিজের লেখা এক নিবন্ধে বাংলাদেশের চলমান সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেনা হস্তক্ষেপ অথবা গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
“ঢাকায় ৭২ ঘণ্টা” শীর্ষক ওই নিবন্ধে ক্রিশ্চিয়ান প্রেদা-বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে উল্লেখ করেন- একদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট নতুন নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ২০১৪ সালের নির্বাচনকে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা দাবি করে তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যস্ত রয়েছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম একটি ছিল ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধীদের বিচার করা। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার সরকার জামায়াতের অন্যতম নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায়ও কার্যকর করেছে। আরো কয়েকটি রায় কার্যকরের অপেক্ষায়। এ দুই দলের আধিপত্যের রাজনীতির কারণে দেশটিতে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। এতে নাগরিক ও সামাজিক অধিকার আরও উদ্বিগ্ন অবস্থায় পতিত হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশটি সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ ও গৃহযুদ্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে।
ওই লেখায় প্রেদা আরও বলেন, দেশটিতে এখন বিরোধীদের সন্ত্রাসী হিসেবে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। প্রেদা উল্লেখ করেন, বিএনপি ও তাদের জোট দলগুলো হাসিনার সরকারকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন অবৈধ হিসেবে ঘোষণা করে নতুন নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনা ২৩২ আসনে জয়লাভ করে এবং এর মধ্যে ১৫৪টিতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই জয় পায় ক্ষমতাসীন জোট। দুই মাস ধরে খালেদা জিয়ার অবরুদ্ধ দশার কথাও উল্লেখ করেন প্রেদা।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসে। ক্রিস্টিয়ান প্রেদা এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন। তারা তিন দিনের সফরে ২০টিরও বেশি বৈঠক করেন রাজনৈতিক দলের নেতা, ট্রেড ইউনিয়ন, উদ্যোক্তা, এনজিও ও মানবাধিকার কর্মীদের সঙ্গে। ক্ষুদ্রঋণের প্রবক্তা নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
প্রেদা তাঁর লেখায় উল্লেখ করেন- অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধের কারণে দেশটির স্থিতিশীলতা আজ প্রশ্নের মুখে পড়েছে। দ্বিমেরুকরণ রাজনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান দেশটিতে। দুই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলের একটি হচ্ছে আওয়ামী লীগ, অপরটি বিএনপি। দল দু’টির মধ্যে তীব্র মতবিরোধ রয়েছে। এক দল আরেক দলকে সহ্য করতে পারে না। এই বিরোধ দেশটিতে অপরাধ, সহিংসতা ও উগ্রপন্থাকে উসকে দিয়েছে।
আওয়ামী লীগ সোশালিস্ট ও ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী। বিএনপি একটি প্রো বিজনেস পার্টি। দুই দলই ভারতমুখি। রাজনীতির এই মেরুকরণের ফলে দুই বড় রাজনৈতিক দলের রয়েছে ৫০ লাখেরও বেশি কর্মী-সমর্থক। বিপুলসংখ্যক এই কর্মী সমর্থক দেশব্যাপী বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে।
আওয়ামী লীগের শেখ হাসিনা সাত বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছেন। সংসদের দুই চারটি অধিবেশনে যোগ দেয়া ছাড়া ২০০৮ সাল থেকে ২০১৪ পর্যন্ত বিএনপি সংসদ বয়কট করে। তবে আইনগত অধিকার থেকেই ২০১৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচন বয়কট করে বিএনপি।
এর আগে নির্বাচন হতো তত্ত্বাবধায়কের অধীনে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এই ব্যবস্থার ইতি ঘটায়। সরকারের এই পদক্ষেপ বিরোধী মহলে উত্তেজনার সৃষ্টি করে।
প্রেদা উল্লেখ করেন-‘বিএনপির নেতৃত্বে রয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। গত দুই মাস ধরে বলতে গেলে তিনি তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে বন্দী রয়েছেন। আমি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় তার বিরোধীর (শেখ হাসিনা) সমালোচনা করেন। এর অবশ্য সত্যতাও রয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মীদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়ে থাকে। ঢাকার রাজনৈতিক অভিধায় এটি একটি পরিচিত শব্দ।’
এই মুহূর্তে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অচলাবস্থা চলছে। বিএনপি নতুন নির্বাচন চায়। আওয়ামী লীগ বলছে তারা ক্ষমতার ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছে। বিএনপির অভিযোগ আওয়ামী লীগ বৈধ উপায়ে ক্ষমতায় আসেনি। ২০১৪ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ ২৩২ আসনে জয়ী হয়েছে। তবে এর ১৫৪টি আসনে এমপিরা জয়ী হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। এসব আসনে আওয়ামী লীগ একজন করে প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়। এমন ঘটনা রোমানিয়ায় ঘটেছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর। সেখানে আইন করে একজন করে প্রার্থী মনোনয়ের কথা বলা হয়েছিল। বাংলাদেশে সেই ব্যবস্থা ফিরে আসায় রাজনৈতিক সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রকৃতপক্ষে শুধু মেরুকরণ এবং চরম রাজনৈতিক উত্তেজনাই নয়, রাজনৈতিক বিরোধের এই রেশ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। সাংবাদিক ও চিকিৎসক সংগঠনের মতো পেশাজীবীরাও আজ দুই ভাগে বিভক্ত। এমন পরিস্থিতিতে কী ঘটতে পারে? সেনা হস্তক্ষেপ অথবা বিপরীতপক্ষে গৃহযুদ্ধ- এই আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর বেশ সুনাম রয়েছে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। খুব কম লোকই জানেন যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ থেকেই সবচেয়ে বেশি সেনা পাঠানো হয়ে থাকে।
২০১৪ সালের জানুয়ারিতে নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশ থেকে আরো ৪ হাজার সেনা পাঠানোর অনুরোধ করেন শেখ হাসিনা সরকারকে (যদিও প্রেদা লিখেছেন খালেদা জিয়ার নাম)। কিন্তু ওই সময় কিছু কিছু এনজিও রাজনৈতিক সঙ্কটকে সামনে নিয়ে আসে এবং বান কি মুনকে অনুরোধ জানায় তিনি যেন ওই সেনা সরবরাহের বিনিময়ে বাংলাদেশে নতুন নির্বাচনের আহ্বান জানান। তারপর থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশে নতুন করে নির্বাচন দাবি করে আসছে।
এছাড়াও, বাংলাদেশে চলমান অস্থিরতা ও সহিংসতার ঘটনায় জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রসমূহ এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ (এইচআরডব্লিউ) বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। কিন্তু কোনো মতেই পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সহিংসতার জন্য কারা দায়ি সে বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকারি দল বারবার বলছে বিরোধী দল রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে সন্ত্রাসী ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী দল বলেছে নাশকতা সরকারি দলের লোক এবং বিভিন্ন গোষ্ঠী করেছে।
তবে এ ব্যাপারে যারা যেকথাই বলুক না কেন, নাশকতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড যে ঘটছে এবং এতে ব্যাপক প্রাণহানী হয়েছে একথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।
দু’মেরুতে অবস্থানে থাকা ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনার নেত্বাধীন সরকার ও খালেদা জিয়ার নেত্বাধীন বিরোধী জোট পরস্পরকে ঘায়েল করতে বিভিন্ন সময়ে নানা কৌশল অবলম্বন করে আসছে। তবে বলা যায়- গেল ছয় বছরে রাজনৈতিক কৌশল প্রয়োগের দিক থেকে বরাবরই হাসিনা সরকার অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলো। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার যে বেশ অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েছে এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।
৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র রক্ষা’ আর ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস পালন করতে গিয়েই দু’পক্ষে রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এতে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি থেকেই সরকার পক্ষ সারাদেশ থেকে ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করে বিরোধী জোট নেত্রীকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। আর বিরোধী পক্ষ ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস পালন করতে না পারায় ৬ জানুয়ারি থেকে লাগাতর অবরোধের ঢাক দেয়। সেই সঙ্গে চলছে হরতাল-ধর্মঘট।
পরস্পর বিরোধী অবস্থানে গোটা দেশ দুই মাস ধরে কার্যত অচল। বোমা-পেট্রোলের আগুনে জ্বলছে যানবাহন, পুড়ছে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ, বোমায় জলসে হতাহত হচ্ছে শত শত মানুষ। মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটে চলছে দগ্ধ মানুষের আহাজারি। এসব ঘটনার জন্য পরস্পরকে দায়ি করা হচ্ছে। অন্যদিকে চলছে বন্দুকযুদ্ধের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। পেট্রোল বোমায় পুড়ে এবং বন্দুকযুদ্ধের নামে ইতোমধ্যে দেড়শতাধিক মানুষ মারা গেছে। ছোবলে গোটা দেশবাসী যেন আজ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এরপরও চলমান এই সহিংসতার শেষ কোথায় তা কেউ জানে না।
হরতাল অবরোধের ৫৬দিন পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যত পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বরং আরো বেশি অবনতি হচ্ছে। পরিস্থিতি ক্রমেই বেসামাল হয়ে উঠেছে। বলা যায়, সার্বিক পরিস্থিতি অনেকটাই সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
দৃশ্যত: দুপক্ষই ‘বাঁচা মরার লড়াইয়ে’ লিপ্ত হয়েছে। এতে দেশের পরিস্থিতি আরো অবণতির আশঙ্কা রয়েছে। যেটা আলোচনার মাধ্যমে এখনো এড়ানো সম্ভব।
বলা যায়- রাজনীতিবিদদের একগুয়েমিতে দেশ আজ গভীর সংকটের নিমজ্জিত। সংকটের গভীরতা বিবেচনায় ‘পরিস্থিতি এমন যে, বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্র হওয়ার পথে চলছে।’ আবার কেউ কেউ গৃহযুদ্ধের আশঙ্কাও ব্যক্ত করেছেন। আর গৃহযুদ্ধ রাজনৈতিক সংকটের মধ্যদিয়েই আসে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এমন পরিস্থিতিতে তৃতীয় শক্তির উত্থানের আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন অনেকে । রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এ আশঙ্কাকে একবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না। বিশ্লেষকদের মতে, যেখানে গণতান্ত্রিক চর্চা রুদ্ধ হয়ে পড়ে, সেখানে এ ধরনের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বিরাজমান থাকে। কেননা, অতীতেও এমন পরিস্থিতিতে জনগণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থেই দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে এগিয়ে আসতে দেখা গেছে।
দিন দিন সব কিছু অবনতির দিকে যাচ্ছে। এটি কারো জন্য শুভ নয়। অচিরেই রাজনৈতিক নেতারা সংকট নিরসন এবং এবিষয়ে একটা সমঝোতায় পৌঁছতে না পারলে চলমান অনভিপ্রেত পরিস্থিতির কারণে দেশে তৃতীয় শক্তি আসতে পারে! এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। যেহেতু এর পেছনে বেশ কিছু কারণও রয়েছে বলে মনে করছেন দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সুশীলসমাজের সদস্যরা। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেশের রাজনীতিতে অঘটনের পেছনে যে সব কারণকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চিহ্নিত করে আসছেন সেগুলোর মধ্যে- প্রথমত: ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক, দ্বিতীয়তঃ দেশে গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব, তৃতীয়তঃ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত না হওয়া, চতুর্থঃ দুর্নীতির ফলে একশ্রেণী লোকের হঠাৎ আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যাওয়া, পঞ্চমতঃ ইসলামী ও স্যেকুলার শক্তির প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব বিদ্যমান রয়েছে।
সম্প্রতি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের) দেশের চলমান রাজনীতি, ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত ৫ জানুয়ারি নির্বাচন প্রসঙ্গ, বাংলাদেশে বিদেশিদের হস্তক্ষেপ, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে স্থবিরতা, সরকারের একতরফা নীতি, ব্যাংক-বীমার নানা সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এমন আশংকার কথাও ব্যক্ত করেছেন।
এছাড়া যে ধরনের পরিস্থিতিতে তৃতীয় শক্তির উদ্ভব হয় বর্তমানে সে ধরনের কিছুটা হলেও প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। কারণ জনগণের সবচেয়ে বড় আকাঙ্খা হলো- জানমালের নিরাপত্তা। কিন্তু বর্তমানে দেশের জনগণ জানমালের কোনো ধরনের নিরাপত্তা বোধ করছে না। কারণ রাস্তায় বের হলে তারা আবার অক্ষত অবস্থায় ঘরে ফিরতে পারবে কী না সে ধরনের কোনো গ্যারান্টিবোধ করতে পারছে না। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তির বাইরে তৃতীয় শক্তির অনুভব ক্রমেই দৃঢ় হচ্ছে সাধারণ মানুষের মাঝে। প্রসঙ্গত, খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে তৃতীয় শক্তির উদ্ভবকে স্বাগত জানানোর মনোভাব লক্ষ্যনীয়।
এছাড়া ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালের আগস্টে ভারতীয় দৈনিক দা ইকোনমিক টাইমস এবং নিউইয়র্ক টাইমস এধরনের খবর প্রকাশ করেছিল যে, সেনা অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সরকার যে কোনো সময় ক্ষমতাচ্যুত হতে পারে।
প্রতিবেদনটি যে উদ্দেশ্যেই প্রকাশ করা হোক না কেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তা একেবারে অমূলক ভেবে অবহেলা করলে চলবে না। কারণ আমরা যদি একটু পেছনে ফিরে যাই তবে দেখতে পাবো- বিগত ওয়ান ইলেভেনের কয়েক মাস আগে বিদেশি পত্রিকায় এ ধরনের আশঙ্কা ব্যক্ত করে প্রতিবেদন কিংবা সম্পাদকীয় প্রকাশ করা হয়েছিল। এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও শহীদ জিয়াউর রহমানের সরকারের পতনের আগে এ ধরনের ভিনদেশী গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক রিপোর্ট আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রকাশিত হয় এবং তা নিয়ে দেশে গুঞ্জনও চলছিল বেশ কিছুদিন। এ ছাড়া বেশ কয়েকবার ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনাও ঘটে। পরে সেটি সত্যে পরিণত হয়।
এমন কী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া সরকারের বিগত সময়ে কয়েক দফা সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। আর সেটা উপেক্ষা করা সম্ভব হয়েছিল সতর্কতার সঙ্গে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার ফলে। অতীতের এসব ঘটনা থেকে বলা যায়, বাংলাদেশে দৃশ্যত: সেনা অভ্যুত্থানের মতো ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা না থাকলেও, যে কোনো সময় এ ধরনের কোনো অঘটন যে ঘটবে না, এটা নিশ্চিত করে বলা যায় না।
সার্বিক দিক বিবেচনায় তৃতীয় শক্তি দেশের জন্য ক্ষতি হলেও রাজনীতিবিদদের ব্যর্থতায় রাজনৈতিক সংকটের কারণে সহিংস পরিস্থিতিতেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে তৃতীয় শক্তি ক্ষমতা গ্রহণ করার অনেক নজির রয়েছে। আর তৃতীয় শক্তির উদ্ভবের পেছনে বিদেশীদের এক ধরনের হস্তক্ষেপ বরাবরই ছিল। আমরা যদি সাম্প্রতিককালে থাইল্যান্ড, মিশরের দিকে লক্ষ্য করি তবে এমনটিই দেখতে পাই।
আর তৃতীয় শক্তির রাজনীতিতে কোনো ধরনের অঘটন ঘটলে হাসিনা-খালেদা কারো জন্য যে শুভকর হবে না তা বাস্তব। বরং তাদের ভুলের খেসারত গোটা জাতিকে দিতে হবে। ফলে আমাদের রাজনীতিবিদদের প্রতি আহবান রাখবো, অবিলম্বে জনগণের আকাঙ্ক্ষা এবং দেশের সুশীলসমাজ-বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন মহলের সংলাপের আহবানকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। অন্যথা কোনো ধরনের অঘটন ঘটলে কোনো পক্ষেরই যে লাভ হবে না, তা আমরা অতীত থেকেই শিক্ষা নিতে পারি। সর্বোপরি, দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে শত রাজনৈতিক মতবিরোধের মধ্যেও কিছু মৌলিক প্রশ্নে সব পক্ষকে একমত হতে হবে। তবেই জাতির বৃহত্তর স্বার্থ সংরক্ষিত হবে।

bangla story: যে কারণে কুমারিত্বই পছন্দ সৌদি নারীদের

bangla story: যে কারণে কুমারিত্বই পছন্দ সৌদি নারীদের: নির্বোধ কাউকে বিয়ে করার চাইতে কুমারী হিসেবে জীবন কাটাতেই পছন্দ সৌদি নারীদের। একথা বলেছেন সৌদি আরবের এক শীর্ষ নারীবাদী লেখিকা। সামার আল মু...

যে কারণে কুমারিত্বই পছন্দ সৌদি নারীদের


নির্বোধ কাউকে বিয়ে করার চাইতে কুমারী হিসেবে জীবন কাটাতেই পছন্দ সৌদি নারীদের। একথা বলেছেন সৌদি আরবের এক শীর্ষ নারীবাদী লেখিকা। সামার আল মুকরেন নামের ওই নারী তার টুইটার অ্যাকাউন্টে এ প্রসঙ্গে বলেন, বিয়ের ক্ষেত্রে সৌদি নারীরা এখন আর সৌদি পুরুষদেরই একমাত্র পছন্দের তালিকায় রাখছেন না।

তিনি সেইসব সৌদি পুরুষদের সমালোচনা করেন যারা অবিবাহিত নারীদের সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ করেন। সামারা আরও লেখেন, বহু সৌদি নারী স্বেচ্ছা আইবুড়ো জীবন বেছে নিয়েছেন কারণ তারা কাণ্ডজ্ঞানহীন স্বামীর ঘরনি হতে চাননি।

তিনি আরও লেখেন, সৌদি নারীরা এখন বিয়েকে দেখেন একটি নিরাপদ ও নিশ্চিত পারিবারিক জীবনোপভোগের সোপান হিসেবে।

সামারার মতে-বয়স হবার পরও যেসব সৌদি নারী অবিবাহিত রয়েছেন সৌদি সমাজের অনেকেই তাদের প্রতি করুনার দৃষ্টি নিয়ে তাকান। তবে ওইসব নারীরা অবিবাহিত আছেন কারণ তারা উপযুক্ত পাত্র পাননি।

সামারার বরাত দিয়ে সৌদি আরব থেকে প্রকাশিত আরবি ভাষার দৈনিক সদা জানায়, সৌদি নারীরা এখন উন্মুক্ত জগতে বসবাস করেন যেখানে সৌদি পুরুষরা এখন আর তাদের একমাত্র পছন্দের তালিকায় নেই।
 - নারীরা এখন পড়াশোনা করেন, লেখালেখি করেন, খোঁজখবর করেন এবং অন্যান্য জাতের মানুষজনের সঙ্গে মতামত বিনিময় করেন, কখনো সরাসরি আবার কখনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। দুনিয়া ব্যাপকভাবে বদলে গেছে এবং এর সঙ্গে তাল রেখে সৌদি নারীরাও বদলে গেছেন। 

bangla story: স্টেইনের বাড়ির দিকে ধেয়ে অাসছে অাগুন!

bangla story: স্টেইনের বাড়ির দিকে ধেয়ে অাসছে অাগুন!: দক্ষিণ অাফ্রিকার ঝড়গতির বোলার ডেল স্টেইনের করা বল ব্যাটসম্যানদের দিকে আগুনের গোলার মতোই ছুটে যায়। এবার সত্যিকারের আগুন ধেয়ে আসছে এই ফাস্ট ...

স্টেইনের বাড়ির দিকে ধেয়ে অাসছে অাগুন!

দক্ষিণ অাফ্রিকার ঝড়গতির বোলার ডেল স্টেইনের করা বল ব্যাটসম্যানদের দিকে আগুনের গোলার মতোই ছুটে যায়। এবার সত্যিকারের আগুন ধেয়ে আসছে এই ফাস্ট বোলারের বাড়ির দিকে।

মঙ্গলবার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচের আগের দিন খবরটি পান স্টেইন। নিজের টুইটারে পাহাড় থেকে নেমে আসা সেই আগুনের ছবিও দেন তিনি।

টুইটারে দেওয়া ছবিটির ওপরে স্টেইন লেখেন, “স্টোনহার্স্টে আমার বাড়ির পেছনে ভীষণ আগুন! …আশা করি, বাড়ি আগুনের কবলে পড়বে না।”

কেপটাউনের কাছে মুইজেনবার্গ পাহাড়ে স্টোনহার্স্ট এস্টেটে স্টেইনের বাড়ি। ফাফ দু প্লেসির সঙ্গে ভার্নন ফিল্যান্ডার ও মর্নে মরকেলও কেপ টাউনেই থাকেন।

স্টেইনের বাড়ির কাছে সম্প্রতি সম্পদ কেনেন দু প্লেসি। নিজের টুইটারে তিনি লেখেন, “আমার নতুন বাড়ির কাছে উন্মত্ত পাহাড়ি আগুন। আশা করছি, আরও ক্ষতি করার আগেই তারা আগুন থামাতে পারবে।”

সোমবার সকালের দিকেও দক্ষিণ আফ্রিকার অগ্নি নির্বাপক কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল।

bangla story: বৃষ্টিতে পণ্ড মোশাররফ-রিয়ার ‘মোটকা’

bangla story: বৃষ্টিতে পণ্ড মোশাররফ-রিয়ার ‘মোটকা’: কথা ছিল গত বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে মোটকা ছবির শুটিংয়ে অংশ নেবেন মোশাররফ করিম। এই ছবির মাধ্যমে মোশাররফ করিমের সঙ্গে কলকাত...

বৃষ্টিতে পণ্ড মোশাররফ-রিয়ার ‘মোটকা’

কথা ছিল গত বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে মোটকা ছবির শুটিংয়ে অংশ নেবেন মোশাররফ করিম। এই ছবির মাধ্যমে মোশাররফ করিমের সঙ্গে কলকাতার অভিনয়শিল্পী রিয়া সেনের জুটি হওয়ার কথা ছিল। সেভাবে প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন পরিচালক ও অভিনয়শিল্পীরা। প্রযোজক, পরিচালকসহ ছবির দলের কয়েকজন যুক্তরাজ্যেও গিয়েছিলেন। ছিলেন ১৯ দিন। একটানা বৃষ্টির কারণে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ছবিটির শুটিং পিছিয়ে দিতে বাধ্য হন পরিচালক। ছবির পরবর্তী শুটিংয়ের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে এ বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে। এখন সেভাবেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে মোটকা ছবির পরিচালক ইফতেখার চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া ছিল। আবহাওয়ার ওপর তো আর কারও হাত নেই। একটানা বৃষ্টির মধ্যে যদি শুটিং করতাম, তাহলে আমাদের আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। সব বিষয় চিন্তা করেই আমরা শুটিংয়ের সময় পিছিয়ে দিই। ছবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে ছবির নতুন শুটিংয়ের সময় ঠিক করেছি।’
ছবিতে মোশাররফ আর রিয়া সেনের পাশাপাশি অভিনয় করবেন কলকাতার বাংলা ছবির অভিনেতা ইন্দ্রজিৎ চক্রবর্তী। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে আলাপচারিতায় মোশাররফ করিম সম্পর্কে ইন্দ্রজিৎ বলেছেন, ‘মোশাররফ করিমের সঙ্গে অভিনয়ের জন্য মুখিয়ে আছি। শুনেছি, তিনি বাংলাদেশের শক্তিমান অভিনেতা।’
মোটকা হবে মোশাররফ করিম অভিনীত সাত নম্বর চলচ্চিত্র। তাঁর অন্য ছবিগুলো হলো জয়যাত্রা, দারুচিনি দ্বীপ, রূপকথার গল্প, প্রজাপতি, থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার ও টেলিভিশন।
মোটকা ছবি প্রসঙ্গে মোশাররফ করিমের ভাষ্য, ‘ছবির গল্প ভালো লেগেছে বলেই কাজ করতে রাজি হলাম। দারুণ কিছু একটা হবে বলে মনে হচ্ছে।’
এদিকে মোটকা ছবির শুটিংয়ের আগে পরিচালক ইফতেখার চৌধুরী আরও দুটি ছবির শুটিং শেষ করবেন। ছবি দুটি হচ্ছে অগ্নি ২ ও রক্ষা। সম্প্রতি এই পরিচালকের অ্যাকশন জেসমিন ছবির শুটিং শেষ হয়েছে। ছবিটি এখন মুক্তির অপেক্ষায় আছে।
মোশাররফ করিম-রিয়া সেন

Monday, March 2, 2015

bangla story: সুরঞ্জিত, হাছান ও কামরুলকে একহাত নিলেন নাজমুল

bangla story: সুরঞ্জিত, হাছান ও কামরুলকে একহাত নিলেন নাজমুল: এবার আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতাদের সমালোচনা করলেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম। প্রকাশ্য সভাতেই দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ...

সুরঞ্জিত, হাছান ও কামরুলকে একহাত নিলেন নাজমুল

এবার আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতাদের সমালোচনা করলেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম। প্রকাশ্য সভাতেই দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদকে এক হাত নিয়েছেন এই ছাত্রলীগ নেতা। 
‘ভুইফোঁড়’ সংগঠনের নানা সভা-সেমিনারে এই তিন নেতাকে বেশি দেখা যায় বলেই আপত্তি নাজমুলের।

সোমবার বিকেলে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ঢাকা মহানগরের নেতা ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের বৈঠক ছিল। আর ওই বৈঠকেই আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতাদের ওপর ক্ষোভ ঢালেন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক।

নাজমুল বলেন, ‘সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, হাছান মাহমুদ এবং কামরুল ইসলাম বিভিন্ন ভুইফোঁড়া সংগঠনের আলোচনা সভায় অংশ নেন। সেখানে কোন শ্রোতা থাকে না, শুধু গণমাধ্যমে চেহারা দেখানোর জন্য চার/পাঁচজন মানুষের সামনে তারা বক্তৃতা করেন। এতে দল এবং সরকারের ভাবমূর্তির ক্ষতি হয়।’

এই ছাত্রলীগ নেতা আরও বলেন, ‘তাদের যদি বক্তৃতা করার এতই ইচ্ছা থাকে, তাহলে ছাত্রলীগকে বললে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে এবং তারা বক্তৃতা করে চলে যাবেন।’

এসময় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘এটা অন্যকোন ফোরামে আলোচনা করা হবে। এখানে শুধু ৭ মার্চ সমাবেশ নিয়ে আলোচনা হবে।’

আওয়ামী লীগের সহ-সম্পাদকদের অত্যাচারে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি ঠিকমত পালন করা যাচ্ছে না- অভিযোগ করে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এসএসএফদের নিরাপত্তা বেষ্টনীর কারণে যেখানে বড়বড় নেতাদের কষ্ট হয় সেখানে দেখা যায় কিছু অপরিচিত লোক বসে আছেন। পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক দাবি করেন। তাদেরকে রাজনীতির মাঠে কখনও দেখা যায় না, তাদের কেউ চেনেও না।’

ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের এই বক্তব্য সমর্থন করেন বৈঠকের সভাপতি মাহবুব-উল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাসিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ নেতারা।

অন্যদিকে শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের সমালোচনা করে বলেন, ‘আমাদের একটি শ্রমিক সংগঠন আছে, যার সহ-সভাপতি নৌ-পরিবহন মন্ত্রী। তারপরও তিনি জাতীয় শ্রমিক লীগকে পাশ কাটিয়ে আরেকটি শ্রমিক সংগঠন করেছেন। এর কোন এখতিয়ার আছে কিনা সেটাও জানতে চাই।’ 

এসময় হানিফ আবারও বলেন, ‘আজ আমরা শুধু ৭ মার্চের জনসভা কীভাবে সফল করা যায় সেটা নিয়ে আলোচনা করব।’

নাজমুল আলমের বক্তব্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমি যৌথসভায় উপস্থিত ছিলাম না। বিষয়টি আমি শুনিনি। কারো শোনা কথায় আমি বক্তব্য দিতে চাইনা।’

আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে অনেকগুলো নামমাত্র সংগঠন রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল- নৈাকা সমর্থক গোষ্ঠী, বঙ্গবন্ধু একাডেমীর নেতৃত্বে আছেন হুমায়ুন কবির মিজি। মিজির এই সংগঠনে নিয়মিত উপস্থিত হন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদের নেতৃত্বে আছেন আওয়ামী লীগের সহ-সম্পাদক এমএ করিম, জয় বাংলা সাংবাদিক পরিষদের নেতৃত্বে আছেন জাহাঙ্গীর আলম বাবু।

অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ নামের সংগঠনটি পাঁচভাগে ভাগ হয়ে গেছে। একটি অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের সহ-সম্পাদক আসাদুজ্জামান দুর্জয়।

bangla story: ঘর থেকে তেলাপোকা দূর করার উপায়

bangla story: ঘর থেকে তেলাপোকা দূর করার উপায়: বহুকাল থেকেই নিজেদের ঘর জ্বালিয়ে যাচ্ছে তেলাপোকা। তেলাপোকা যেমন দেখতে ঘিনঘিনে ভীতিকর, তেমনি নোংরা ও রোগের বাহক।  তেলাপোকার অত্যাচারে কোনো ...

ঘর থেকে তেলাপোকা দূর করার উপায়

বহুকাল থেকেই নিজেদের ঘর জ্বালিয়ে যাচ্ছে তেলাপোকা। তেলাপোকা যেমন দেখতে ঘিনঘিনে ভীতিকর, তেমনি নোংরা ও রোগের বাহক। 

তেলাপোকার অত্যাচারে কোনো জিনিসই ঠিক রাখতে পারছেন না? জেনে নিন তেলাপোকা নিধনের কার্যকরী একটি কৌশল।

সমপরিমাণ বোরিক পাউডার ও বেকিং পাউডার একসাথে মিশিয়ে নিন। এর সাথে মেশান তিন ভাগের এক ভাগ চিনি। এবার এতে সামান্য পানি মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এবার তেলাপোকার আনাগোনার বিভিন্ন জায়গায় পেস্টটি লাগিয়ে দিন। এর ফলাফল হবে খুব ভালো। এবং খুব কম সময়ের মধ্যেই আপনার ঘর থেকে বিদায় নেবে তেলাপোকা।

bangla story: ৯ হাজার টাকায় এইচডি পর্দার সেট দেবে সিম্ফনি

bangla story: ৯ হাজার টাকায় এইচডি পর্দার সেট দেবে সিম্ফনি: স্মার্টফোনের বাজারে এবার এইচ টোয়েন্টি নামের পাঁচ ইঞ্চি পর্দার স্মার্টফোন আনল সিম্ফনি। গতকাল ইস্টার্ন প্লাজায় সিম্ফনির মোবাইল আউটলেটে হ্যান...

৯ হাজার টাকায় এইচডি পর্দার সেট দেবে সিম্ফনি

স্মার্টফোনের বাজারে এবার এইচ টোয়েন্টি নামের পাঁচ ইঞ্চি পর্দার স্মার্টফোন আনল সিম্ফনি। গতকাল ইস্টার্ন প্লাজায় সিম্ফনির মোবাইল আউটলেটে হ্যান্ডসেটটি উদ্বোধন করা হয়। বাজারে যেকোনো মোবাইল আউটলেটে আট হাজার ৯৯০ টাকায় ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে।
এইচ টোয়েন্টির মূল আকর্ষণ এর নিখুঁত ডিসপ্লে, যা যেকোনো দিক থেকেই সবসময় পরিষ্কার উজ্জ্বলভাবে দেখা যায়। এতে এ জন্য ব্যবহার করা হয়েছে ইন-প্লেইন সুইচিং বা আইপিএস প্রযুক্তির পর্দা, যা সারা বিশ্বে আদর্শ হিসেবে পরিচিত। এই প্রযুক্তির ফলে ফোনটির প্রত্যেকটি ছবি বা মুভি অনেক স্পষ্ট ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। ব্যবহারকারীদের আসল থ্রিডি মোবাইল গেমিংয়ের অভিজ্ঞতা দিতে অ্যাস্ফল্ট বা নিড ফর স্পিডের মতো বিশ্বখ্যাত গেমসগুলো কোনো ঝামেলা ছাড়াই চলবে। এর সঙ্গে যোগ করা হয়েছে ৫ মেগাপিক্সেল ব্যাক ক্যামেরা ও ২ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা। আর অটো ফোকাস প্রযুক্তির ফলে ছবি তোলা যাবে যেকোনো মুহূর্তে। সহজ কথায়, এই স্মার্টফোন ব্যবহার করে যে কেউ সব রকম ছবি, মুভি, গেমিং বা গানসহ যেকোনো মাল্টিমিডিয়া পুরোপুরি উপভোগ করতে পারবেন। এ ছাড়া এতে ওয়াইফাই, ডাব্লিউল্যান, ব্লুটুথ ও মডেম হিসেবে ব্যবহার করার সুবিধা তো থাকছেই।

হাতিরঝিলে ৫ মিনিটের তাণ্ডব : বসুন্ধরা গেট, পুরান ঢাকাসহ নগরজুড়ে ভাংচুর আগুন, আতংক

ঢাকা: এটাকে তাণ্ডব বললে ভুল হবে না। মাত্র পাঁচ মিনিটেই আতঙ্কের রাজ্য করে তোলে কয়েকজন যুবক। অন্তত চারটি প্রাইভেটকার জ্বলছে, একের পর এক ভাঙা হচ্ছে গাড়ি। এ ঘটনা সোমবার সকাল ১০টার, গুলশানের হাতিরঝিল এলাকায়। মিনিট পাঁচেক সময়ে ১০/১২ জন যুবক বেপরোয়া গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও গুলশান-১’র নিকেতন সং
লগ্ন হাতিরঝিলের স্থানীয়রা জানায়, হঠাৎ করেই দাঁড়িয়ে থাকা ১০/১২ জন যুবক হরতাল হরতাল বলতে থাকেন। এরপরই তারা ছড়িয়ে পড়েন রাস্তায়। এদের একটি অংশ গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিতে থাকেন। আর অন্য অংশটি বেপোরয়াভাবে গাড়ি ভাঙচুর করতে থাকেন। এ সময় অন্তত চারটি প্রাইভেটকার জ্বলতে দেখা গেছে। আর গোটা দশেক গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। আতঙ্কে সেখানকার মানুষজন ছোটাছুটি করতে থাকে। পাঁচ মিনিটের রহস্যময় তাণ্ডব চালিয়ে যুবকরা পালিয়ে যায়। তবে তাদের কাছে হরতাল সমর্থনের কোনো ব্যানার দেখা যায়নি। শুরুটা বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটর নতুন করে ডাকা ৭২ ঘণ্টা হরতালের আগের দিন শনিবার, সন্ধ্যা থেকে রাজধানী ঢাকায় বেড়ে যায় গাড়িতে আগুন দেয়া আর ভাঙচুরের ঘটনা। হরতালের প্রথম দিন রবিবার দিন শেষে নগরীতে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ১২টি গাড়ি। এতে আহত হন সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন। ভাঙচুর করা গাড়ির সংখ্যা অগণিত। আর হরতালের দ্বিতীয় দিন সোমবার সকাল থেকে এসব ঘটনা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। বেলা ১১টা পর্যন্ত রাজধানীর লক্ষ্মীবাজার, বসুন্ধরা, হাতিরঝিলের গুলশান নিকেতনসহ বিভিন্ন এলাকায় বেপরোয়াভাবে গাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় আগে থেকে আতঙ্কিত নগরবাসীর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে দুপুরের পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন চলাচল কমতে দেখা গেছে। বাসে যাত্রীও কম। প্রাইভেটকারের সংখ্যা কমে গেছে আশঙ্কাজনক হারে। সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে হরতাল সমর্থনে মিছিল করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরকর্মীরা। এ প্রায় আধা-ঘণ্টা ধরে ওই এলাকায় পুলিশের সঙ্গে শিবিরকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, লক্ষ্মীবাজার এলাকায় ঝটিকা মিছিল থেকে লাঠিসোঠা নিয়ে ২০/২৫ জন শিবিরকর্মী পাঁচটি গাড়ি ও দুটি প্রাইভেটকারে অগ্নিসংযোগ করে। তারা কমপক্ষে ১০টি ককটেলের বিস্ফোরণও ঘটায়। এ সময় সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং লোকজন ছোটাছুটি করতে থাকেন। খবর পেয়ে সূত্রাপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পুলিশ দুই শিবরিকর্মীকে আটকের কথা জানিয়েছে। প্রায় একই সময়ে গুলশান-১’র নিকেতন সংলগ্ন হাতিরঝিলে হঠাৎ করেই দাঁড়িয়ে থাকা ১০/১২ জন যুবক হরতাল হরতাল স্লোগান দিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে। এরপর তাদের একটি অংশ গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিতে থাকেন। আর অন্য অংশটি বেপোরয়াভাবে গাড়ি ভাঙচুর করতে থাকেন। সকাল নয়টার দিকে রাজধানীর পুরনো ঢাকার কবি নজরুল কলেজের সামনে পার্কিং করা একটি প্রাইভেটকারে আগুন দিয়েছে অজ্ঞাতরা। এ সময় ওই এলাকায় আরও বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সকাল নয়টার দিকে রাজধানীর নর্দ্দা এলাকার ট্রাফিক পুলিশ পোস্টের সামনে আটটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পুলিশ পোস্ট ও একটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুলিশ পোস্টের ইনচার্জ সার্জেন্ট আইনুল জানান, কয়েকজন যুবক হঠাৎ করেই পুলিশ পোস্ট লক্ষ্য করে আটটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ট্রাফিক পুলিশ পোস্টের গ্লাস ভেঙে যায়। এরপর সকাল সাড়ে নয়টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরায় যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে হরতালের সমর্থনে বের হওয়া একটি মিছিল থেকে বেপরোয়া গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০-দলীয় জোটের ব্যানারে সকালে বাড্ডার নর্দা এলাকায় হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে গেলে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। এ সময় হরতাল সমর্থকরা দুটি বাস, তিনটি প্রাইভেটকার ও একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাংচুর করে পালিয়ে যায়। প্রায় একই সময়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ডেমরা রোডে ভাংগা প্রেস মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের কাছে দুটি গাড়িতে আগুন ও বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হঠাৎ ৪০/৫০ জন যুবক স্লোগান দিয়ে এলোপাথাড়ি গাড়ি ভাঙচুর করতে থাকে। তারা একটি যাত্রীবাহী বাস ও মাল বোঝায় ট্রাক থামিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আর বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর করে পালিয়ে যায়। সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় জনতা ব্যাংকের একটি স্টাফবাসে ককটেল হামলা করেছে অজ্ঞাতরা। এতে ছয়জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর পূর্ব রামপুরায় একটি খুন ও উত্তর বাড্ডায় বেলুন ফুলানোর সময় গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একজনের মৃত্যু হয়েছে। পূর্ব রামপুরায় বাসায় ঢুকে সাবেক কর কমিশনার আবু তাহেরকে (৭০) খুন করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাতরা। রবিবার গভীর রাতে টিভি রোডের ৩৪৭ নম্বর বাসায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবু তাহের একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ইনকাম ট্যাক্সের সাবেক কর কমিশনার। রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় বেলুন ফুলানোর গ্যাসসিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে এক যুবক মারা গেছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। প্রতিবেশীরা আহতদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে এলে আলী হোসেন (২৫) নামে ওই যুবকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহতরা হলেন- বিল্লাল (২৫), আকতার (২০), বোরহান (২০) এবং মানিক (২৫)। এদিকে, ২০-দলীয় জোটের ডাকা টানা অবরোধ ও হরতালে নাশকতার অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের ১৪ নেতাকর্মীকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সোমবার সকাল আটটা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টার অভিযানে তাদের আটক করার কথা জানিয়েছেন ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান।

bangla story: 'বুধবার আদালতে যাচ্ছেন না খালেদা'

bangla story: 'বুধবার আদালতে যাচ্ছেন না খালেদা':   জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে আগামী ৪ মার্চ আদালতে যাচ্ছেন না বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ...

'বুধবার আদালতে যাচ্ছেন না খালেদা'

 জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে আগামী ৪ মার্চ আদালতে যাচ্ছেন না বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শায়রুল কবির খান বলেন, ‘অবরোধ ও হরতালে নিরাপত্তার কারণে বেগম জিয়া কার্যালয় বা বাসা থেকে বের হন না। সে জন্যই আদালতে যাবেন না তিনি।’

এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় এ পরোয়ানা জারি করা হয়।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ৬৩ কার্যদিবসের মধ্যে মাত্র ৭টি দিবস আদালতে হাজির ছিলেন। বুধবার ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদার খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহার আবেদনের শুনানিকালে ওই তথ্য প্রকাশ করেন। এদিন এ মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় বিচারক খালেদা জিয়াসহ মোট তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

একই মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ৪ মার্চ আদালতে হাজিরা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

bangla story: নাম মাত্র দামে দ্বীপের রাজা!

bangla story: নাম মাত্র দামে দ্বীপের রাজা!: ছবির মতো সাজানো একটা ছোট্ট দ্বীপ। জনসংখ্যাও বেশি নয়। দ্বীপে থাকছে একটি বিশালাকার মধ্যযুগীয় প্রাসাদ। সেই বিলাসবহুল প্রাসাদে রয়েছে ১০টি শোওয়...

নাম মাত্র দামে দ্বীপের রাজা!

ছবির মতো সাজানো একটা ছোট্ট দ্বীপ। জনসংখ্যাও বেশি নয়। দ্বীপে থাকছে একটি বিশালাকার মধ্যযুগীয় প্রাসাদ। সেই বিলাসবহুল প্রাসাদে রয়েছে ১০টি শোওয়ার ঘর।
প্রাসাদের যে কোনও ঘর থেকে বাইরে তাকালেই নীল জল। ইতালির বিখ্যাত ত্রাসিমেনো হ্রদ। দ্বীপটিকে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর করে তুলতে প্রচুর গাছও লাগিয়েছেন দ্বীপের বাসিন্দারা। রয়েছে অত্যাধুনিক সব রকম সুবিধেও। শুধু নেই একজন রাজা। হ্যাঁ, ইতালির উমব্রিয়া অঞ্চলের একটি ছোট দ্বীপ বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। ছবির মতো সুন্দর ওই দ্বীপ, প্রাসাদ, গীর্জা–সব মিলিয়ে দাম ধার্য করা হয়েছে মাত্র ৩০ লক্ষ পাউন্ড (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা)! এই টাকা খরচ করতে পারলেই যে কোনও ব্যক্তিই ওই দ্বীপের রাজা হবেন। তাঁর হাতেই থাকবে দ্বীপের শাসন ক্ষমতা।
হ্যাঁ, দামের সংখ্যাটা বহু ধনীর কাছেই ‘মাত্র’ হতে পারে। কারণ এই দামে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারে একটি বাড়িও কেনা যায় না। ইতালির উমব্রিয়া অঞ্চলে এই দ্বীপটিকে কেউ কিনলে, প্রাসাদটি তিনি হোটেল হিসেবেও ভাড়া দিতে পারবেন। সেই অনুমতি দিয়েছে ইতালি সরকার। দ্বীপটি কিনলে ১১ একর জমির প্রাসাদটির সঙ্গেই মিলবে একটি টেনিস কোর্ট, ব্যবসা করতে চাইলে পাবেন দু’টি ব্যক্তিগত বন্দরও। একই সঙ্গে রাজার নিরাপত্তা দেবে স্থানীয় প্রশাসন।ইতালি প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৮৮৫ থেকে ১৮৯১ সালের মাঝামাঝি ওই প্রাসাদটি তৈরি করা হয়। প্রাসাদের ভিতের সে যুগের অতিমূল্যবান আসবাবও রয়েছে। অপেক্ষা শুধু একজন রাজার।